পূর্বধলায় জমি বিরোধে কুপিয়ে-পিটিয়ে তিনজনকে জখম, থানায় মামলা
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ রাত

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন দুলাল মিয়া (৫২), তার স্ত্রী হেনা আক্তার (৪৮) ও ছেলে কাউছার আহমেদ (২২)। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুলাল মিয়া ও তার ছেলে কাউছার আহমেদ নিজেদের দাবি করা জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন সোহেল (৪০), পারভেজ হোসেন রাসেল (৩৬), ইমতিয়াজ মাহমুদ (৩৪), নিয়াজ মাহমুদ (৩০) এবং আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা, লোহার রড ও শাবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলার সময় আনোয়ার হোসেন সোহেল ধারালো দা দিয়ে দুলাল মিয়ার মাথায় কোপ দেন। পরে ইমতিয়াজ মাহমুদ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং আবু তালেব নামে অপর এক ব্যক্তি লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তার ডান পায়ের হাঁটুর হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবাকে রক্ষা করতে গেলে কাউছার আহমেদের মাথায় নিয়াজ মাহমুদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়। চিৎকার শুনে দুলাল মিয়ার স্ত্রী হেনা আক্তার এগিয়ে এলে পারভেজ হোসেন রাসেল শাবল দিয়ে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাঁর বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দুলাল মিয়া ও কাউছার আহমেদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী দিলন মিয়া বলেন, বর্তমানে তার বাবা ও ছোট ভাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কাউছার আহমেদের মাথার খুলি ফেটে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং দুলাল মিয়ার ডান পায়ের হাঁটুর হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ১ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন সোহেল। তিনি বলেন, “গত ফসল কাটার মৌসুমে আমার নিজস্ব জমির ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। পরে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে আমরা ধান কাটি। ঘটনার দিনও তারা আমার জমিতে জালা ধান রোপণের চেষ্টা করলে আমরা বাধা দিই। এ সময় তারাই আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের পক্ষের পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







