গাইবান্ধায় প্রথমবার জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত
আসাদুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ বিকাল

"উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৬ জুলাই) জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), গাইবান্ধার যৌথ উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও উপকারভোগীদের মাঝে ফুল ও ফলজ গাছের প্রায় দেড় শতাধিক চারা বিতরণ করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকারের সভাপতিত্বে এবং শিরিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম মিঞা, পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুজ্জামান শহিদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জোবায়ের আলী। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বক্তারা বলেন, গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পল্লী উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
এসময় দুইজন উদ্যোক্তার মাঝে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাঝারি ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। ঋণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা হলেন সদর উপজেলার কদমেরতলা এলাকার উদ্যানিক মহিলা দলের উদ্যোক্তা মালেকা বেগম এবং পূর্ব কোমরনই পুরুষ পল্লী উন্নয়ন সমিতির উদ্যোক্তা মো. আবু সাঈদ সুজা।
এছাড়াও মধ্য নারায়ণপুর মহিলা সমবায় সমিতির ১১ জন সদস্যের মাঝে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
সবশেষে শ্রেষ্ঠ সংগঠক, শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ঋণের সফল ব্যবহারকারী—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট তিনজন নারী ও পুরুষকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।







