বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম

চিকিৎসা অবহেলায় সাপের কাটা নারীর মৃত্যু, হাসপাতাল স্টাফের ওপর স্বজনদের হামলা


  আকন্দ সোহাগ, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ রাত

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্টাফদের চিকিৎসা  অবহেলায় সাপের কামড়ে আহত এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।  এ ঘটনার জেরে নিহতের স্বজনরা  ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ওপর হামলা করেছে।
 
মঙ্গলবার  (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত  রমিছা বেগম (৫৫) বালিজুড়ী ইউনিয়নের মধ্য তারতাপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী চান মিয়ার স্ত্রী।
 
নিহতের স্বজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার ( ৬ জুলাই)  রাত ৯টার দিকে বাড়ির উঠানে একটি বিষধর সাপ নিহত রমিছা বেগমের পায়ে কামড় দেয়। পরে তাকে তাৎক্ষণিক  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে আনেন স্বজনরা। এসময় জরুরি বিভাগে  কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাহিদুজ্জমান উশ্নু, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা দিতে ৪ তলায় ছিলেন।  জরুরি বিভাগে ছিলেন  উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আছাদুজ্জামান ও নৈশপ্রহরী মুসলিম উদ্দিন ছিলেন। তারা সাপে কাটা নারীর ব্লাড টেস্ট করেন। টেস্ট রিপোর্টে নেগেটিভ থাকায় চিকিৎসায় অবহেলা করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে৷ এরমাঝে জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডাঃ নাহিদুজ্জামান জরুরি বিভাগে আসলে সাপে কাটা নারীকে এন্টিভেনম ভেক্সিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ততক্ষণে রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ও সময়মত চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্ষোভে রমিছার পরিবারের লোকজন বিকল্প চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জরুরি বিভাগ থেকে বের হয়। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যান্য লোকজনের পরামর্শে এন্টিভেনমের ভেক্সিন প্রয়োগের জন্য পুনরায় রমিছা বেগমকে জরুরী বিভাগে নেওয়া হয়। এসময় রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাহিদুজ্জামান রমিছা বেগমকে  জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে  রেফার করেন।
 
এসময় পরিবারের লোকজন মুমুর্ষ অবস্থায় রমিছা বেগমকে নিয়ে কবিরাজের কাছে কাছে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। এর জেরে মঙ্গলবার ( ৭ জুন) আনুমানিক  বেলা ১২টার দিকে নিহত রমিছা বেগমের ভাই শরিফ উদ্দিন  বোনের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে লোকজন সাথে নিয়ে এসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এসময় উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার  আসাদুজ্জামানের ওপর তিনি বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
 
একপর্যায়ে তিনি তার উপর ওপর শারীরিক হামলা চালান। যার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। নিহতের ছেলে লিটন মিয়া বলেন, আমার মাকে সাপে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়, চিকা বা অন্য কিছু কামড় দিয়েছে। কোনো অ্যান্টিভেনম দেননি। পরে মায়ের অবস্থা খারাপ হলে আবার হাসপাতালে নিয়ে গেলে জামালপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু পথে আমার মা মারা যান। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত