রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

পূর্বধলায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৩ দুপুর

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বিদ্যুতের খুঁটি ও ট্রান্সফরমার ভেঙে যাওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে চলা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সদর, আগিয়া, হোগলা, ঘাগড়া, বিশকাকুনী, ধলামূলগাঁও ও নারান্দিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আকস্মিক এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বধলা সদর, ঘাগড়া ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে বসতঘর, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে। এছাড়া ঘাগড়া ফয়জুল উলুম স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও ট্রান্সফরমার ভেঙে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

এছাড়া ঝড়ের কারণে রাতে উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বারধার (বারহা) এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে জারিয়া লোকাল ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। পরে গাছ সরালে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমিতে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় শিলার আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে।

সদর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, “গত রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমার বোরো ধানের ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। যেসব ধানে শীষ বের হয়েছিল, সেগুলো শিলার আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে। এবার ফলন পাওয়া কঠিন হবে।”

সদর ইউনিয়নের তারাকান্দা গ্রামের সোহেল ভূঁইয়া বলেন, “ঝড়ের সময় বসতঘরের ওপর প্রায় দেড় থেকে দুই শত বাঁশসহ একটি বাঁশঝাড় ভেঙে পড়ে দুটি ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। ঈদের আগে এমন ক্ষতিতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

ঘাগড়া ইউনিয়নের বাইঞ্চা এলাকার কৃষক মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, “লিজ নিয়ে ১১২ শতক জমিতে ভুট্টা ও ১৪৮ শতক জমিতে শসা আবাদ করেছিলাম। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেব বুঝতে পারছি না। সরকারের সহায়তা দরকার।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জোবায়ের হোসেন জানান, গতকালের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে পূর্বধলা উপজেলার  প্রায় ২০ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধান, ভুট্টা, শসাসহ বিভিন্ন  শাকসবজি জাতীয় ফসল রয়েছে। ফসলের ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাগণ কাজ করে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেওয়া হচ্ছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যোগাযোগ করলে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ১০টি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং আরও কয়েকটি খুঁটি হেলে পড়েছে। লাইন মেরামতের কাজ চলছে, পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত