শেরপুরে নৃ-জনগোষ্ঠি কোচ কিশোরীরা পেলো প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৪ বিকাল
~2 (1)_original_1773489230.jpg)
শেরপুরে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ পেলো নৃ-জনগোষ্ঠি কোচ সম্প্রদায়ের কিশোরীরা। একজন নারী চিকিৎসক কিশোরীদের বয়:সন্ধিকালীন বিভিন্ন শারিরীক জটিলতা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা, জরায়ু ও স্তন ক্যান্সার, গর্ভবতী ও প্রসুতি মায়ের সেবা, নিরাপদ রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা ও প্রতিকার বিষয়ে পরামর্শ দেন।
‘কৈশোর জীবন গড়ার সঠিক সময়’,‘কিশোরী স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও যত্ন, সুন্দর জীবনের পরম লগ্ন’-এমন প্রতিপাদ্যে নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে কোচ সমাজ পরিচালনা কমিটি ও আইইডি’র সহযোগিতায় কিশোরী স্বাস্থ্য বিষয়ক এ সচেতনতামুলক সভার আয়োজন করে। ১৪ মার্চ শনিবার দুপুরে জেলার সীমান্তবর্তী গারে পাহাড় এলাকার ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া আদর্শ গ্রামের কোচ ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র চত্বরে এ সচেতনতামুলক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া ফারজানা প্রধান অতিথি হিসেবে কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। জনউদ্যোগ কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ-এর সভাপতিত্বে এতে উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন শেরপুর সরকারী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদির, উদীচী জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি তপন সারোয়ার, ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনির, কোচ আদিবাসী নেতা রুয়েল কোচ, সংগঠক-গবেষক যুগল কিশোর কোচ, ওয়েব ডেভেলপার মিনহাজ উদ্দিন, শিক্ষক ও সংস্কৃতিসেবী এসএম আবু হান্নান, সাংবাদিক হাকিম বাবুল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কৈশোরে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বয়সে স্বাস্থ্য সচেতনতার অবহেলায় সামনের দিনে অনেক বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরী করতে পারে। সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে জীবন বিপন্ন হতে পারে। এজন্য যদি আমরা নিজেদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারি, সতর্ক থাকতে পারি, তবেই নিজেকে সুস্থ্য-সবল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। নারীদের সাহসী হয়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে যৌতুক ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভুমিকা রাথার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইনে আয়বৃদ্ধিমুলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও কার্যকর পরামর্শ প্রদান করা হয়।
ডা. সাদিয়া ফারজানা বলেন, নিয়মিত কিছু অভ্যাস আমাদের সুস্থ্য রাখতে বিশেষ ভুমিকা রাখে। সকালে খালি পেটে থাকা যাবেনা, রাতে না খেয়ে ঘুমানো যাবেনা। পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। মাসিকের সময় (রজ:কালীণ সময়) পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করাটা নিরাপদ। কিন্তু অপরিচ্ছন্ন ন্যাপকিন ব্যবহার করা যাবেনা। ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে একটি গর্ত করে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। নারীদের যেকোন ধরনের শারীরিক জটিলতায় সরকারি হাসপাতাল, মাতৃসদন কিংবা চিকিৎসাকন্দ্রে সেবা নেওয়ার সুবিধার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে স্কুল-কলেজপড়ুয়া অর্ধশতাধিক কোচ সম্প্রদায়ের কিশোরী অংশগ্রহণ করে। পরে জনউদ্যোগ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের মধ্যে বিনামুল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও স্বাস্থ্যসম্মত নাস্তা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।







