রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা মসজিদে এক যুগ ধরে চলছে ধনী-গরিবের একসঙ্গে ইফতার


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৫২ দুপুর

প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে ‌মসজিদে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় শতাধিক রোজাদার ধনী-গরিবের একসঙ্গে ইফতার করেন। ইফতারের সময় ওই জামে মসজিদে প্রাঙ্গনে বসে মিলনমেলা। যেখানে ধনী গরিব বিভিন্ন পেশার মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন।

জানা গেছে, শেরপুরের প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদে একযুগ ধরে রোজার মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ এখানে একসঙ্গে ইফতার উপভোগ করেন। কখনও কখনও এ সংখ্যা আটশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এখানে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, দিনমজুর, আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অটোরিকশা চালক, ভিক্ষুক, পথচারী, সাংবাদিক ও ফকির-মিসকিনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে বসে ইফতার সারেন। যোগ দেন মসজিদের খতিব ও ইমাম এবং মসজিদ কমিটির সদস্যরাও।‌ এ মসজিদে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন ছয় শতাধিক রোজাদার বিনা মূল্যে এ ইফতার এর জন্য খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ৫ জন রাঁধুনি বড় বড় হাঁড়িতে প্রায় ৬০ কেজি চালের খিচুড়ি রান্না করেন। সঙ্গে থাকে পেঁয়াজু, ছোলাভুনা, খেজুর, মুড়ি ও অন্যান্য খাবার।

বাবুর্চি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা মসজিদে এক যুগ ধরে প্রায় ছয় শতাধিক রোজাদারদের জন্য ইফতার তৈরির কাজ করে আসছি। ইফতারের পদের মধ্যে থাকে পেঁয়াজু, বেগুনি ও সবজি খিঁচুড়ি। এসব রান্না ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য সজিদ প্রাঙ্গনে একটি রান্নাঘর স্থাপন করা হয়েছে। 

স্থানীয় রোজাদাররা জানান, শেরপুরের চার শতাধিক বছরের পূর্বের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা মসজিদে প্রতিদিন প্রায় ছয় শতাধিক মানুষের জন্য ইফতার তৈরি করে। এখানে ইফতার করে তৃপ্তি পাওয়া যায়। ইফতার খেতে খুবই সুস্বাদু। এখানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করে।

মসজিদের মুয়াজ্জিন মোঃ মনিরুল হক জানায়, এখানে ধনি, গরিব, হাজি, শিক্ষক শিক্ষার্থী, মাওলানা, মুফতি, ভ্যান চালক, রিকশাচালক, সকল পেশার মানুষ এখানে ইফতার করতে আসেন।

মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আকরাম হোসেন শেরপুরী জানায়, প্রায় এক যুগ আগে ২৫ থেকে ৩০ জন রোজাদারকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এ উদ্যোগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে এখন প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। মসজিদের মূল কমিটির অধীনে ৩১ সদস্যের ‘ইফতার আয়োজন উপকমিটি’ এ কর্মসূচি পরিচালনা করে। সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ন ও সমাজের বিত্তশালীদের অনুদানে চলে মাসব্যাপী এই আয়োজন। কেউ দেন চাল, কেউ ছোলা, কেউ খেজুর বা নগদ অর্থ।

মসজিদ কমিটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ ও ইফতার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব ঈমান আলী হিরা জানায়, মসজিদের মুসল্লিদের অনুপ্রেরণায় তাদের দান সহযোগিতা এবং শেরপুরের বিভিন্ন বৃত্তশালী ব্যবসায়ীর সহযোগীতা এবং মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতর রোমজান মাস এটাকে উদযাপন করার জন্য ধনী গরিব নানা দেশের মানুষ একসাথে ইফতার করে। 

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল আওয়াল চৌধুরী জানায়, মসজিদটির বয়স প্রায় আড়াইশো বছর হলেও এর পুরনো আদল ভেঙে নতুন করে আধুনিক স্থাপত্য কলায় নির্মাণ করা হয়েছে সম্প্রতি। ১০ ১২ বছর আগে এখানে প্রতিদিনের ইফতারের আয়োজন শুরু করা হয়। তখন ২০‌ থেকে ২৫ জন মানুষ থাকলেও এখন ৫ থেকে ৬ শত মানুষের আয়োজন চলছে।

ইফতারের আগে রোজা কবুলের জন্য দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। রোজার এই সংযমের শিক্ষা যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় এবং সমাজের সর্বস্তরের এমন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন যেন চির অটুট থাকে এমনটা প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত