ভূমি অধিগ্রহন জটিলতায় শেরপুর-ময়মনসিংহ বিকল্প সড়কের কাজ বন্ধ হওয়ার পথে
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৮ দুপুর

শেরপুর (কানাসাখোল)-ভীমগঞ্জ-নারায়ণখোলা
প্রকল্প বাস্তবায়ন কারি সরকারি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে অধিগ্রহনের দীর্ঘ সূত্রতায় কাজ আগানো যাচ্ছে না। আগামি মাসে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
জানা যায়, বর্তমানে শেরপুর-ময়মনসিংহের দুরত্ব ৬৯ কিলোমিটার। এই বিকল্প সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলে দুই জেলার মধ্যে দূরত্ব কমবে ২০ কিলোমিটার। শেরপুর-ময়মনসিংহের অনগ্রসর বিশাল চরাঞ্চলের ভিতর দিয়ে বিকল্প ওই সড়কটি করার মেগা প্রকল্প গ্রহন করে সরকার। বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সাথে লাখ লাখ মানুষের সহজ যোগাযোগ ও অনগ্রসর চরাঞ্চলবাসির জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ৪৪.৯০৬ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩৩.৭৮ ফুট। এছাড়া সড়কে ৮টি বড় সেতু ও শতাধিক ছোট ও মাঝারি কালভার্ট ধরা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ জানায়, এই প্রকল্পের কাজ চারটি প্যাকেজ ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজ সদর উপজেলার কানাশাখোলা থেকে শুরু হয়ে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা পর্যন্ত ১৩.৫০০ কিলোমিটার। দ্বিতীয় প্যাকেজ চন্দকোণা থেকে ময়মনসিংহের শুরু চরবসন্তি (রামভদ্রপুর) পর্যন্ত ১১.১২১ কিলোমিটার। এই দুই প্যাকেজের কাজ তত্বাবধানের দায়িত্ব শেরপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। বাকী দুই প্যাকেজ ব্রহ্মপুত্রের উপর ব্রীজ ( রহমতপুরের ব্রহ্মপুত্রের উপর ১৪৭১ মিটার ব্রিজ) ও (রামভদ্রপুর-পুরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) পর্যন্ত ১৯.৬২১ কিলোমিটার সড়ক বাস্তবায়ন করছে ময়মনসিংহ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রথম প্যাকেজের কিছু কাজ বাস্তবায়ন হলেও, স্থাপনা উচ্ছেন ও ভূমি অধিগ্রহন জটিলতায় বাকি কাজ হচ্ছে না। উপরন্ত প্যাকেজ শুরুর অংশ কানাশাখোলা বাজারে জেলা পরিষদের একটি মার্কেট ভাঙ্গার অনুমতি না পাওয়ায় শুরুর অংশেই কাজের ব্যাঘাত ঘটছে।আর দ্বিতীয় প্যাকেজের ১১.১২১ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ করে ৮ মাস যাবৎ বসে আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকী ৬ কিলোমিটার সড়কের ভূমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না।
অপর দিকে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, জেলার নিয়ন্ত্রনাধীন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩০ শতাংশ, আর সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এখানেও ভূমি অধিগ্রহন জটিলতা রয়েছে ও সড়কের কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনষ্টাকশন দীর্ঘ দিন কাজ করেনি বলে জানিযেছেন ওই জেলার নির্বাহী প্রকৌশলি শওকত আলী। ওই নর্বাহী প্রকৌশলি আরও জানান গত মাসে ঠিকাদার বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত ঠিকাদার নিযোগ ও অধিগ্রহন জোড়দার করে কাজের গতি আনা হবে। এদিকে কাজের দীর্ঘ সূত্রিতায় স্থানীয় এলাকাবাসী বিরক্তি প্রকাশ করছে। স্থানীয়দের দাবী, এই জন গ্ররুত্বপুর্ণ কাজটি করতে এত হেলাফেলা কেন। সমস্যা দূর করে দ্রুত কাজ শেষ করা হোক।
শেরপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলি শাকিরুল ইসলাম জানায়, স্থাপনা উচ্ছেন ও অধিগ্রহন না হওয়ায়, হাতে কোন কাজ থাকবে না ফলে প্রকল্পের কাজ আগামি মাসে বন্ধ হয়ে যাবে। সময়ের অপচয়ের সাথে সাথে আগামিতে কাজের মুল্য বাড়বে, সরকারের বেশী অর্থ ব্যয় হবে । গুরুত্ব বিবেচনায় এখনই অধিগ্রহন সম্পন্ন করলেও আগামি জুনে কাজ শেষ হবে না।
জেলা প্রশাসক তরফতার মাহমুদুর রহমান জানায়, লেকবল সংকটে অধিগ্রহণ বিলম্ব হয়েছে। জেলা পরিষদের স্থাপনা ভাঙ্গতে স্থানীয় সরকারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অধিগ্রহণ ও যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।







