সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২
শিরোনাম

ইরানে ১২০০টির বেশি বোমা নিক্ষেপের দাবি ইসরায়েলের


  আরবান ডেস্ক

প্রকাশ :  ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৯ দুপুর

ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে গত একদিনে ইরানের ওপর এক হাজার ২০০টির বেশি গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

হামলার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও আঘাতের মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১৪৮ শিশু নিহত এবং আরও অনেকজন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, স্কুলে হামলায় নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শিশুদের নিরাপত্তা ও হামলার প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়েছে। যদিও ইসরায়েলি পক্ষ বলছে, তাদের লক্ষ্য ছিল কেবল সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা, স্কুলে হামলার ঘটনা অনিচ্ছাকৃত।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরানের এই প্রাদেশিক শহর লক্ষ্য করে হামলা, যেখানে স্কুল এবং বেসামরিক এলাকা রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দিক থেকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আরও সহিংসতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলও হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্বিগ্ন। সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতা স্কুল হামলার ঘটনাকে নিন্দনীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া নেয়ার পরিকল্পনা করছে।

ইরানের শিশু এবং বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি এই আঘাত আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ব নেতারা, বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো, হামলার অবিলম্বে তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের উপর আঘাত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত