বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় হিরণপুর ড্রাগন ক্লাবের আয়োজনে বর্ণাঢ্য পহেলা বৈশাখ উদযাপন


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ রাত

“অতীতের সকল গ্লানি সন্তর্পণে মুছে যাক বৈশাখের আগমনে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পূর্বধলায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী হিরণপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হিরণপুর ড্রাগন ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ এমদাদ উল্লাহ খান।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিরণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দীন।

দিনের শুরুতেই একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। পরে “এসো হে বৈশাখ” গান পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সেলিম উদ্দিন এবং চিকিৎসক আসাদুজ্জামান খান রতনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

দিনব্যাপী আয়োজনে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধুলা বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্থান পায়। কুস্তি, কলাগাছ আহরণ ও নারীদের হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দলীয় সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় এবং একক ও দলীয় নৃত্য পরিবেশিত হয়।

এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোঃ এমদাদ উল্লাহ খান বলেন, সময়ের পরিবর্তনে গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উৎসবমুখর এ আয়োজন শুধু নববর্ষের আনন্দই ছড়ায়নি, বরং বাঙালির চিরচেনা লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত