মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বসেছিল বাঙালি-অবাঙালীর মিলন মেলা 


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ দুপুর

বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির বাঙালিয়ানা। আবহমান বাংলার কৃষ্টি-কালচার ও লোকজ সংস্কৃতি ফুটে ওঠে এ বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে। 

তবে শেরপুরে এই বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বাঙালিয়ানার পাশাপাশি বাঙালি-অবাঙালির মিলনমেলা ঘটে। অর্থাৎ শেরপুরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার গারো, কোচ, হাজং, ডালু বানাই বর্মন সহ বিভিন্ন পাশাপাশি ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ রয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব কৃষ্টি কালচারের পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সাজিয়ে বাঙালি রূপে। বাঙ্গালীদের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। তাদের ট্রেডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি বাঙালির শাড়ি পড়ে উদযাপন করে বাংলা নববর্ষ। 

এর ওই ধারাবাহিকতায় শেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রায় অবাঙালি গারো-কোচ সম্প্রদায়ের নারী পুরুষকে বাঙালিআনায় মেতে উঠতে দেখা যায়। তারাও তাদের নিজস্ব কৃষ্টি-কালচারের পাশাপাশি বাঙালি কৃষ্টি কালচারে মত্ত হয়ে ওঠে। 

এ বিষয়ে শিক্ষক মিঠুন কোচ বলেন, বাংলা নববর্ষ যেহেতু বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক সে কারণে আমাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তা থাকলেও আমরা নতুন বছরে পুরাতনকে মুছে নতুন করে শুরু করার অঙ্গীকার নিয়ে এই বাংলা নববর্ষ উদযাপন করি। তবে আমরা বাংলা সনের চৈত্র সংক্রান্তি অনুষ্ঠান আমাদের নিজস্ব কৃষ্টির অংশ হিসেবে মনে করে পালন করে থাকি।

এ বিষয়ে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের সমাজসেবক ও সাংবাদিক কেয়া নকরেক বলেন, আমরা যেহেতু বাংলাদেশে বসবাস করি তাই বাংলাদেশের এই বাঙালির উৎসবটি সার্বজনীন। আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি কালচার থাকলেও এই বাংলা নববর্ষটি আমরা ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ না রেখে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করি। উৎসবটি শুধু সরকারি অনুষ্ঠান মালায় নয় আমরা ঘরে ঘরেও পালন করি। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত