মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২
শিরোনাম

জামালপুর সদরের কেন্দুয়ায় পরিবেশ সুরক্ষায় ড্রাম বিতরণ 


  মো: খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৩ বিকাল

পরিবেশ দূষণ রোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নে বসতবাড়ির আশেপাশে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ২০টি ড্রাম বিতরণ করা হয়েছে।
 
এ কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং কারিগরি ও বাস্তবায়ন সহযোগিতা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সংঘের যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত জেন্ডার ইনক্লুসিভ মার্কেট সিস্টেমস ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GESMIN) প্রকল্প (জেসমিন প্রকল্প)।
১১ জানুয়ারি রবিবার কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ড্রাম বিতরণ কার্যক্রমের সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান।
 
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্যানেল চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আজকের এই ড্রাম বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা যদি সঠিকভাবে বর্জ্য সংরক্ষণ করতে পারি, তাহলে আমাদের ইউনিয়ন আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। এ ধরনের উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদ ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আতাহার আলী, হিসাব সহকারী শেলী আক্তার, ইউপি সদস্য রাকিবুল ইসলাম মিলন, বেদেনা বেগম, লুৎফা বেগম, সাহিদা বেগম ও নায়েব আলী।
 
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেসমিন প্রকল্পের সাব-ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর সুজিত চিসিম এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা। কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন কমিউনিটি ফেসিলিটেটর মাসুদ রানা, তৃপ্তি খাতুন ও নীলা আক্তার।
 
অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন মাসুদ রানা, কমিউনিটি ফেসিলিটেটর, কেন্দুয়া, জেসমিন প্রকল্প, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। তিনি বলেন, “পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে পরিবেশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই ড্রামগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ সম্ভব হবে।”
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আতাহার আলী বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় সচেষ্ট। আজকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সচেতন হবে এবং এটি ইউনিয়নের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”জেসমিন প্রকল্পের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা বলেন,“পরিবেশ সুরক্ষা ও পুষ্টি উন্নয়ন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ না থাকলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনও ব্যাহত হয়। তাই স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা টেকসই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”
জেসমিন প্রকল্পের সাব-ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর সূজিত চিসিম বলেন, “এই কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য আমরা কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় জেসমিন প্রকল্প ভবিষ্যতেও পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিবান্ধব কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী।” ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানান, নির্দিষ্ট স্থানে ড্রাম স্থাপনের মাধ্যমে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, ফলে এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত