প্রচণ্ড শীতে পূর্বধলায় জালধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় কৃষক
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৬ রাত

প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা-র বিভিন্ন এলাকায় ধানের জালধান (বীজতলা) নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাতের তীব্র ঠান্ডা ও শিশিরের প্রভাবে চারাগাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক স্থানে চারার পাতা পচে যাওয়া, হলদে বা সাদা হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে ধান রোপণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে টানা শীতের কারণে বীজতলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বুধি গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী ও আব্দুল আওয়াল জানান, তীব্র শীতের কারণে অনেক জায়গায় চারা দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে, যা বোরো চাষে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
একই উপজেলার ধলামূলগাঁও গ্রামের কৃষক মনজুরুল হক বলেন, “হঠাৎ করে এত শীত পড়ায় জালধান ঠিকভাবে বাড়ছে না। চারার পাতা পচে যাচ্ছে। শীত যদি আরও বাড়ে, তাহলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।”
ঘাগড়া গ্রামের কৃষক মো. ফজলুর রহমান জানান, “রাতে কুয়াশা ও শিশিরে জালধান ভিজে থাকে। খড় ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছি, কিন্তু সব জমিতে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, “প্রচণ্ড শীতে ধানের জালধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কৃষকদের রাতে পলিথিন বা খড় দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষকরা সময়মতো পরামর্শ মেনে চললে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। রৌদ্র উঠলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”
এদিকে কৃষকদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে জালধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বীজতলা নষ্ট হয়ে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
এ অবস্থায় জালধান রক্ষায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।






_medium_1768215946.jpg)
