বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম

সচিবের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে পরিষদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


  ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ দুপুর

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তার বাড়ী হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফান্দা গ্রাম।
 
চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার অভিযোগ, তাঁর স্বাক্ষর জাল করে ছয়টি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার মাধ্যমে এ অনিয়ম করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চেয়ারম্যান।
 
 অভিযোগ পাওয়ার পর সচিবকে তলব করা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে অভিযোগপত্র জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
 
চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের অর্থের মধ্যে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং সাধারণ তহবিলের ৩ লাখ ৭১ হাজার টাকাস্বাক্ষর জাল করে উত্তোলনের অভিযো এবং বিভিন্ন খাত থেকে গত দুই মাসে আদায় করা প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা রয়েছে। শেষোক্ত অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল বলে দাবি তাঁর।
 
চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রায় ২০ দিন আগে সোনালী ব্যাংকের কলমাকান্দা শাখা থেকে পরিষদের ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারি। ব্যাংক স্টেটমেন্ট না নিলে এত টাকা সরানোর বিষয়টি জানতেই পারতাম না।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘সচিব আমার স্বাক্ষর জাল করে বেশ কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা গত দুই মাসের প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যে জমার স্লিপ আমাকে দেখিয়েছেন, তাতেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’
 
চেয়ারম্যানের ভাষ্য, দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় সচিবের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে সচিব টাকা উত্তোলন এবং ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
 
চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রথমে ইউএনওকে মৌখিকভাবে জানান এবং পরে লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
 
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর সচিব মজিবুর রহমানকে তলব করা হয়। সচিব প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা তাঁর কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
 
অভিযুক্ত সচিব মজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত ০১৮২৯-২৬৮৫৫৬ ও ০১৭১৯-০৩০৪৫৪ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। একটি নম্বর খোলা পাওয়া গেলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্য নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত