প্রবাসী নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ: বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
ক্লোডিয়া নকরেক কেয়া
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ দুপুর

জাপান প্রবাসী নারী চাকুরীজীবির সাথে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ, আরও টাকা দাবি, হুমকি ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান মিজান। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নালিতাবাড়ীর আড়াইআনি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মিজানুর রহমান। তিনি নালিতাবাড়ী নিজপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান জানান, জাপানপ্রবাসী লিমা সাহার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জান্নাতুল নাঈম ওরফে অন্তর সরকার ধ্রুবর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। জান্নাতুল নাঈম একজন বিবাহিত মুসলিম যুবক হকেও লিমা সাহার কাছে সে নিজেকে অন্তর সরকার ধ্রুব নামে পরিচয় দিয়ে হিন্দু অবিবাহিত যুবক হিসেবে উপস্থাপন করেন। জান্নাতুল নাইম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে নিজের ছবি এডিট করে হিন্দু যুবক হিসেবে লিমা সাহার কাছে ছবি পাঠিয়ে বিশ্বস্ততা অর্জন করে। পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে লিমা সাহার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা, মোটরসাইকেল ও আইফোন নিয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদিও সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন তিনি।
মিজানুর রহমানের ভাষ্য, টাকা নেওয়ার পর লিমা সাহার কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলে লিমা সাহার সন্দেহ হয়। পরবর্তী সময়ে লিমা সাহা জাপান প্রবাসী যুবক আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে তার ভাই মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে। তার সহোদর ভাই জাপান প্রবাসী আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে লিমা সাহা প্রতারিত হওয়ার ঘটনাটি জানতে পারে। পরবর্তীতে লিমা সাহার অনুরোধে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জান্নাতুল নাঈমকে লিমা সাহার পক্ষে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে নালিতাবাড়ী ডেকে আনেন। নালিতাবাড়ী আসার পর জান্নাতুল নাইমকে লিমা সাহার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে একপর্যায়ে সে প্রতারণা করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তারপর নালিতাবাড়ীর কেরেঙ্গাপাড়া এলাকায় স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অভিযুক্ত জান্নাতুল নাইম ওরফে অন্তর সরকার ধ্রুব তাঁর ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জামানত হিসেবে রেখে বাকি টাকা ফেরতের পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি লিখিত দিয়ে যান।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফেরত না দিয়ে উলটো মিজানুর রহমানকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন প্রতারক জান্নাতুল নাঈম।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান আরও জানান, তিনি একজন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তি। তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত প্রতারক জান্নাতুল নাইমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ,আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাপান থেকে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী লিমা সাহা জানান, জান্নাতুল নাইম একজন মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও হিন্দু পরিচয় দিয়ে আমার সাথে প্রেমের পরিচয় গড়ে তুলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিভিন্ন সময় নানান প্রয়োজন দেখিয়ে আমার কাছ থেকে নগদ ১৮ লক্ষ টাকা, আইফোন, মোটরসাইকেল নিয়েছে। আইফোন পাঠানোর রিসিট টাকা পাঠানোর প্রমাণ প্রমাণ সাংবাদিকদের দেখান তিনি। এ প্রতারিত হওয়ার ঘটনায় লিমা সাহা প্রতারক জান্নাতুল নাঈমের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।

_medium_1791985165.jpg)
_medium_1791983236.jpg)




