বৃহত্তর ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী জেলা জামালপুরের সদর উপজেলায় একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত "ইকো-বেইজড পর্যটন প্রকল্প" গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের আওতায় এই প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রস্তাবনা পেশ করেছেন ‘ইন্টেলিজেন্ট কনসালটেন্সি অ্যাসোসিয়েট’-এর সিইও এবং পরামর্শক মো: মতিউর রহমান। এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে এই সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগটি গ্রহণের জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়ন সংলগ্ন ‘জামালপুর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’-এ বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্লট বরাদ্দ ও শিল্প স্থাপনের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। এর ফলে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হলেও স্থানীয় ও বহিরাগত হাজারো মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন, অবকাশ যাপন এবং আধুনিক পর্যটন সুবিধার চরম ঘাটতি রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন প্রায় ৩৭৫ একর আয়তনের সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত পরিত্যক্ত জলাভূমি ‘বামুনবি বিল জলমহাল’-কে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে এই জলাভূমি থেকে প্রায় ১০০ একর ভূমি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় ২৭৫ একর গভীর ও অগভীর জলাভূমি বর্তমানে অযাচিত কচুরিপানা ও আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই "বামুনজি বিল জলমহাল উন্নয়ন" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় একগুচ্ছ আধুনিক ও যুগান্তকারী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক রাস্তা, ব্রিজ, ড্রেনেজ ও পাড় সংরক্ষণ ব্যবস্থা নির্মাণ; হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, পার্ক ও উন্নত পর্যটন আবাসন সুবিধা; এবং লেকভিত্তিক নান্দনিক পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন। এছাড়াও বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক, ব্যায়ামাগার, রাইড, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিনেপ্লেক্স, মিলনায়তন, হাউস বোট, ওয়াটার বাস ও স্পিড বোট চালুর বিষয়গুলোও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় মাছ চাষ ও জলজ সম্পদ উন্নয়নসহ সৌরবিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, আধুনিক আলোকসজ্জা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সুয়ারেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সর্বস্তরের মানুষের জন্য মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয় স্থাপনের কথাও ভাবা হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় কারুশিল্প ও নকশীকাঁথা শিল্পের বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জামালপুর সদরের ১২ নং তিতপল্লা ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত গান্দাইল, রঘুনাথপুর দিঘুলী, সুলতান নগর, শিল্পকুড়িয়া ও পিন্ডারহাটি মৌজা জুড়ে এই প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ইকো-ট্যুরিজম ও উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর এই সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় নারী-পুরুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এটি একই সাথে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে এবং দেশের জাতীয় জিডিপিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
আবেদনপত্রটির অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য (জামালপুর-৫), বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জামালপুরের জেলা প্রশাসক বরাবরও পাঠানো হয়েছে।