পূর্বধলায় যুবদল নেতার ওপর হামলা: জামায়াতের নায়েবে আমীর ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১০:৩৮ রাত

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে উপজেলার আগিয়া বাজারে যুবদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের নায়েবে আমীর ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাতে পূর্বধলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের জটিয়াবর গ্রামের বাসিন্দা ও ৭নং আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মো. উমর শরীফ (৩৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষে মোটরসাইকেলে করে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন উমর শরীফ। বিকেল ৩টার দিকে আগিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক তার পথরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীদের হাতে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, পাইপ, দা, রামদা, কুড়াল, ইটপাটকেল, ককটেল ও পেট্রোল বোমা ছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজুয়ানুর রহমান রনি ও সদর ইউনিয়ন উপজেলা জামায়াতের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম বাবুলসহ মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় উমর শরীফের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার বাম হাতের কবজির নিচে গুরুতর জখম হয়। পরে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, হামলায় আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ব্যবসায়িক ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তার ব্যবহৃত টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেলে পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত উমর শরীফকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “এটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা মামলা। আমাকে সহ যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের কেউই এ ঘটনায় জড়িত নন।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “ওই দিন আমাদের অনেক নেতাকর্মীকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এখনও অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলায় যে মোটরসাইকেল পোড়ানোর কথা বলা হয়েছে, সেটি আমাদের জামায়াত কর্মী মাওলানা সালেহ আহমেদ সোহাগের।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







