কলমাকান্দায় হোমস্টে প্রশিক্ষণ, পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার সূচনা
সুহাদা মেহজাবিন
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১১:১৬ রাত

নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার নয়নাভিরাম রংছড়ির পাঁচগাঁও চন্দ্রডিংগা গ্রামে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন শিল্প বিকাশে শুরু হয়েছে “মানসম্মত হোমস্টে ব্যবস্থাপনা ও অতিথি সেবা” বিষয়ক দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে টেকসই পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একটিভিটি ফর রিফরমেশন অব বেসিক নীডস্-আরবান এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থার অভাবে অনেক পর্যটক হতাশ হয়ে ফিরে যান। এ অবস্থায় চন্দ্রডিংগা এলাকায় হোমস্টে ব্যবস্থা চালু হলে তা পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জন্য বিকল্প ও টেকসই আয়ের উৎস সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নে আরবান এর ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক কাবিল মিঞা, আরবানের ট্যুরিজম অ্যান্ড স্কিলস্ প্রোগ্রাম ম্যানেজার আসাফ উদ্ দৌলা (আশেক), ট্যুর প্লাসের পরিচালক ইদ্রিস আলী এবং আরবানের কো-অর্ডিনেটর আবুল আরশাদ।
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে ৩০ জন সম্ভাবনাময় স্থানীয় হোমস্টে ফ্যাসিলিটেটর অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হোমস্টে ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন, অতিথি আপ্যায়ন ও হসপিটালিটি স্কিল, স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন চর্চা এবং গারো-হাজং সম্প্রদায়ের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উপস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কলমাকান্দাকে একটি মানসম্মত কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। ফলে পর্যটনের সুফল সরাসরি পৌঁছে যাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায়।







