পূর্বধলায় জীবিত বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার আবেদন, তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৩:১৯ দুপুর

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জীবিত বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে ভোটার হওয়ার আবেদন করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের শালদিঘা গ্রামের রুমা বেগমকে ঘিরে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোটার নিবন্ধনের আবেদন যাচাইয়ের সময় তথ্যগত অসংগতি ধরা পড়ে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, আবেদনপত্রে মৃত দেখানো হলেও রুমা বেগমের বাবা মো. জামাল মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগম দুজনই জীবিত রয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামাল মিয়া শ্যামগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাংসের ব্যবসা করছেন এবং পরিবারসহ স্বাভাবিকভাবেই বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে গোহালাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি দাবি করেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পালন করেন। তারা নথি পরীক্ষা করে আনলে তিনি স্বাক্ষর করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাসিন ইসরাক বলেন, অনেক সময় উদ্যোক্তাদের কাছেও অনলাইন পোর্টালের আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকে। সেই সুযোগে কেউ অপব্যবহার করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় নথির পরিবর্তে অসম্পূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অনলাইনে তথ্য পরিবর্তনেরও চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রুমা বেগম জানান, মায়ের সাথে বয়সজনিত জটিলতার কারণে তিনি আগে ভোটার হতে পারেননি। পরে স্থানীয় এক উদ্যোক্তার সহযোগিতায় আবেদন করেন। তবে এর আগে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি গ্রাম পুলিশ রুবেলের মাধ্যমে মৃত্যু সনদ সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে উদ্যোক্তা জেবিন বেগম ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, তারা এ বিষয়ে জানেন না নির্বাচন অফিস থেকে জানানোর পরই তারা তা জানতে পারেন।
অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ রুবেল মিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি নির্বাচন অফিসে সঠিক তথ্যই দিয়েছেন এবং এ ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রুমা বেগমের জন্মসাল ২০০৪। অথচ তাঁর মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মসাল ১৯৯০ হলেও মৃত্যু নিবন্ধনে তা ১৯৭৫ দেখানো হয়েছে। একই ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে বাবার তথ্যেও। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, যাদের মৃত দেখানো হয়েছে তারা পরবর্তী সময়ে ভোটার এলাকা স্থানান্তরও করেছেন।
এ বিষয়ে পূর্বধলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহান বলেন, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে সরকারি নথি তৈরি করা গুরুতর অপরাধ। ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে যারা এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







