শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বিষয়ে স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভা


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ০৭ মে ২০২৬, ১০:০২ রাত

সমাজে প্রচলিত জেন্ডারভিত্তিক কুসংস্কার, বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতিবাচক সামাজিক ধ্যান-ধারণা দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা ও যুব প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে “জেন্ডার স্টেরিওটাইপ নিরসনে স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সমতায় তারুণ্য সংলাপ” শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।

একটিভিটি ফর রিফরমেশন অব বেসিক নীডস-আরবান এর বাস্তবায়নে, জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত “সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি” প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন খাঁনের সভাপতিত্বে এবং আরবানের কো-অর্ডিনেটর আবুল আরশাদের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন আরবান'র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আরিফুজ্জামান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সরকারি ও সামাজিক বিভিন্ন স্তরের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের সুচিন্তিত মতামত প্রদান করে অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনকে সফল করার আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ সমাজ আরও সমতাভিত্তিক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সেশন পরিচালনা করেন আরবান'র ডিরেক্টর (এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) সুহাদা মেহজাবিন এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর নূর আলম নাহিদ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমীন শাহজাদী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তাজবীর মোস্তফা, দৈনিক আমার দেশের উপজেলা প্রতিনিধি শফিকুল আলম শাহীন, পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জায়েজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কেবিএম নোমান শাহরিয়ার, মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, পূর্বধলা সরকারি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী জুয়েল, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার বাবলি রংমা, পূর্বধলা রেডলাইনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ সজিব, উপজেলা যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহান প্রীতি এবং আল হেরা মডেল মাদ্রাসার পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ।

এছাড়াও বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং যুবক-যুবতীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষকে ঘিরে প্রচলিত অনেক নেতিবাচক ধারণা ও কুসংস্কার এখনও বিদ্যমান রয়েছে। এসব বৈষম্যমূলক ধারণা নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সামাজিক অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও জেন্ডার সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উপস্থিত বক্তারা তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা কার্যক্রম ও কমিউনিটি পর্যায়ের আলোচনা সভাগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় “সমতায় তারুণ্য” প্রকল্পের লক্ষ্য, কৌশল ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে যুব নেতৃত্বাধীন অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম, স্থানীয় যুব সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত ইনক্লুসিভ ইন্টার‍্যাকটিভ ডিসকাশন সেশন সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
এ সময় জেন্ডার স্টেরিওটাইপ ও সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত বৈষম্যমূলক আচরণ, নেতিবাচক জেন্ডার ধারণা ও এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা আলোচনায় বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে বলেন, নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা সমাজ থেকে নেতিবাচক জেন্ডারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্মূলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, “সমতায় তারুণ্য” প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো যুব ও নারীদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন নেতিবাচক জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক ধ্যান-ধারণা ও বৈষম্য দূর করে একটি জেন্ডার সংবেদনশীল সমাজ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত