জামালপুরে বালু ইজারা নিয়ে দুই নেতার অডিও ক্লিপ প্রকাশের প্রতিবাদ
মো: খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০২:২১ দুপুর

জামালপুরে বিএনপির দুই নেতার অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রকাশের প্রতিবাদে সভা হয়েছে। জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান সোমবার সকালে শহরের সিও অফিস সংলগ্ন মার্কেটের একটি কক্ষে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিমের এডিট করা খণ্ডিত কলরেকর্ড ছড়িয়ে দিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার দাবি করেছেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান।
সভায় জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান বলেন, 'গত এপ্রিল মাসে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ছনকান্দা-চর যথার্থপুর বালুমহালের ইজারারা দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে মোতাবেক আমরা ইজারার দরপত্র ক্রয় করি। ১৯ শে এপ্রিল দরপত্র দাখিলের দিন ধার্য ছিল। আগের দিন অর্থাৎ ১৮ই এপ্রিল জামালপুর সদর আসনের এমপি এড. শাহ্ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন মহোদয়ের বরাত দিয়ে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: রুহুল আমীন মিলন, জেলা মৎসজীবী দলের সভাপতি আ: হালিম আমাকেসহ ইজারার সিডিউল ক্রয়কারীদের এমপি মহোদয়ের চেম্বারে ডেকে নেন। জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মিলনের ফোনে আমার সাথেও এমপি মহোদয়ের কথা হয়। এমপি মহোদয় আমাকে সমঝোতার জন্য আহ্বান জানান। যেহেতু আমি ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, আমরা অধিকাংশ ইজারার সিডিউল গ্রহীতারা এমপি মহোদয়ের ব্যক্তিগত চেম্বারে একত্রিত হই। সেই দিন রাত্রেই রুহুল আমীন মিলন ও যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: মিজানুর রহমান বাকি সিডিউলগুলো বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জমা নেন।' তিনি আরও বলেন, '১৯ এপ্রিল সকালে আমরা সকলেই মিলে এমপি মহোদয়ের চেম্বারে সমঝোতার বৈঠকে বসি। আলাপ-আলোচনা করে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির (পূর্ব শাখা) সাধারণ সম্পাদক মো: আমিনুল ইসলামের আমেনা এন্টার প্রাইজের নামে ছনকান্দা চর যথার্থপুর বালু মহালের সর্বোচ্চ দরদাতা করার সিদ্ধান্ত হয়। আমাদের সকলের সিডিউলগুলো রুহুল আমীন মিলন ও আ: হালিম জমা নেন। সিদ্ধান্ত হয় সর্বোচ্চ দরদাতাসহ ৩টি সিডিউল আ: হালিম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রক্ষিত টেন্ডার ব্যাক্সে জমা দেবে। আমরা বিডিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আ: হালিমের কাছে জমা দেই। পরে জানতে পারি আমাদের সমঝোতা সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমেনা এন্টার প্রাইজের বিডি সরিয়ে ফেলেন। পরে শামীম এন্টারপ্রাইজের নামে লাইসেন্সকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দরপত্র বাক্সে জমা দেন। এই ঘটনার পর বালু মহালের সাথে জড়িত সকলেই ক্ষুদ্ধ হন।পরে আমাকে রাগাণ্বিত করে কৌশলে আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করেছেন আব্দুল হালিম। সেই ফোন রেকর্ড এডিট করে কাটছাট করে গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছেন, যা গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'আমাকে ব্যক্তিগত, সামজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তিনি এই অপচেষ্টা চালিয়েছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিম জানান,সভায় আমাকে ও এমপি মহোদয়কে জড়িয়ে তিনি যেসব দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার সঙ্গে আমার যতটুকু কথা হয়েছে ততটুকু অডিও ক্লিপই ভাইরাল হয়েছে, একটুও কমবেশি নয়। সভায় জেলা শ্রমিকদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন মঙ্গল, জেলা যুবদলের সদস্য মো. নূর ইসলাম কালা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রতন, শিলা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







