তিন চাকার যানবাহনের দৌরাত্ম্যে পূর্বধলা বাজারে তীব্র যানজট, ভোগান্তি চরমে
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ দুপুর

ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা বাড়ায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের বাজারে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা ও ট্রলি সহ সকল যানবাহন অবাধে চলাচলের কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বুধবার দুপুরে পূর্বধলা বাজারে ষ্টেশন মোড় থেকে জামতলা বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট। বাজারে কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা নেই। সারি সারি দাঁড়ানো অটোরিকশার কারণে শতশত যানবাহন আটকে রয়েছে। আটকে থাকা অন্যান্য যানবাহনের চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পূর্বে অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড থাকত এবং বাজারের বাইরে যাত্রী ওঠানামা করানো হতো। কিন্তু গত দেড়-দুই বছর ধরে সেই নিয়ম কার্যকর নয়। ফলে অটোরিকশা এখন বাজারের ভেতরে প্রবেশ করে দোকানের সামনে যাত্রী ওঠানামা করছে। সরু রাস্তার বাজার এলাকায় এ কারণে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে।
বাজারের ভেতরে রাস্তার উপর দোকান বসানো এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটার চাপ বাড়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। জরুরি কেনাকাটা বা প্রয়োজনীয় কাজে এসে দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বাজারের ব্যবসায়ী আকাশ জানান, যানজটের কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। “আগে ঈদ বা পূজার সময় প্রশাসন যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নিত। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
নোমান ফকির নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, “সকাল ৯টা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাজারে যানজট লেগে আছে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধের গাড়িও আটকে আছে। অথচ প্রশাসনের কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি।”
কামরুল হাসান আরও বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে দ্রুত ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা, অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং বাজারের ভেতরে অবাধ যান চলাচল বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
এ ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহান জানিয়েছেন, পূর্বধলা বাজারে তীব্র যানজটের বিষয়টি তারা শুনেছেন। সমস্যা নিরসনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামীকাল থেকে ঈদের পরদিন পর্যন্ত বাজার এলাকায় গ্রাম পুলিশ ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আশা করা যাচ্ছে, এতে যানজটের সমস্যা কমবে।







