মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
শিরোনাম

পূর্বধলায় বর্গাচাষীদের ওপর হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৬ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় বর্গা নেওয়া জমির ধান কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে বর্গাচাষীদের ওপর হামলা, মারধর এবং পরবর্তীতে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কুমারখালি বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, আগিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কালডোয়ার গ্রামের শাফিউন চৌধুরীর কাছ থেকে এক বছর আগে একই গ্রামের আবুল কুদ্দুসের পরিবার ৩৮ শতক ধানী জমি বর্গা নেন। বোরো মৌসুমে চুক্তি অনুযায়ী ফসলের অর্ধেক জমির মালিক এবং অর্ধেক বর্গাচাষীরা পান। তবে চলতি আমন মৌসুমে দেখা দেয় জটিলতা।

অভিযোগ অনুযায়ী, জমির মালিক শাফিউন চৌধুরীর নির্দেশে বর্গাচাষীরা ধান কাটতে গেলে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানরা বাধা দেন এবং ফসল তাদেরকে দেওয়ার দাবি জানান। পরবর্তীতে মালিকের পুনরায় নির্দেশে বর্গাচাষীরা ধান কেটে মাড়াই করতে গেলে তারা বর্গাচাষী রাজিয়া খা, আব্দুল কদ্দুস ও জামাল মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন।

ঘটনার পর গ্রাম্য সালিশে সিদ্ধান্ত হয়-শাফিউন চৌধুরীর দুই পরিবার ধান বণ্টন করে নেবে। কিন্তু প্রথম পক্ষের সন্তানরা সালিশের সিদ্ধান্ত না মেনে বর্গাচাষীর পরিবারের স্বজনসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর আদালতে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় একজন ইতোমধ্যে ৪ দিন কারাভোগ করেছেন। কয়েকজন আদালত থেকে জামিন নিলেও বাকিরা গ্রেপ্তারের ভয়ে পলাতক রয়েছেন।

মামলার আসামি মো. কামাল মিয়া মানববন্ধনে অভিযোগ করে বলেন, “মামলার বাদীপক্ষ নাসরিন সুলতানা পিংকি ও মাহমুদুল হাসান চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।

বর্গাচাষি রাজিয়া খাতুন বলেন, “আমার বৃদ্ধ স্বামীকে মারধর করে উল্টো আমাদের ওপরই বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটের মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি চাই।”

মামলার আরেক আসামি মো. মাফিজ মিয়া জানান, “ঘটনার সময় উপস্থিত না থেকেও আমাকে ও আমার পরিবারের চার সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার ছেলের বিয়ের দিন ঠিক ছিল, এখন মামলার কারণে সে গ্রেপ্তারের ভয়ে ঘরেও থাকতে পারছে না, বিয়ের আয়োজনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজিয়া খাতুন, মো. কামাল মিয়া, হাফিজ উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, হানিফ মিয়া, লাল চাঁন মিয়া, দুলাল মিয়া, জামাল মিয়া, রহিম উদ্দিনসহ অনেকে।

বক্তারা প্রশাসনের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের অব্যাহতি এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে নাসরিন সুলতানা পিংকি চৌধুরী ও মাহমুদুল হাসান চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্গাজমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি স্থানীয় দরবারে মীমাংসা করা হয়। কিন্তু অপর পক্ষ দরবারের সিদ্ধান্ত না মেনে সেদিনই তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এই পরিস্থিতিতে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত