মাধবপুর-চুনারুঘাটের ২৩ চা বাগানে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়
মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ দুপুর

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বঞ্চনা আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির মধ্যে থাকা চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের আভাস মিলছে হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগানে। স্থানীয়দের দাবি, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল এবং তাঁর ছেলে শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদের উদ্যোগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হওয়ায় চা বাগান এলাকায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনের আগে দুই উপজেলার ২৩টি চা বাগান ঘুরে শ্রমিকদের জীবনমান ও বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও তাঁর ছেলে। সে সময় ভূমির অধিকার, শিক্ষার সুযোগ, চিকিৎসা সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পরে জাতীয় সংসদেও চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।
সুরমা চা বাগানের এক বাসিন্দা জানান, বাগানের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি জানানো হলে সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ থেকে সুরমা টি গার্ডেন আইডিয়াল হাই স্কুল, সুরমা চা বাগান ১০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাহঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তেলিয়াপাড়া সেন্ট জোসেফ বিদ্যালয়ে বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও সিলিং ফ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
লস্করপুর ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদের উদ্যোগে চণ্ডীছড়া চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলো জেলার মধ্যে প্রথমবারের মতো ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দিরের সংস্কার, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, শ্রমিক পরিবারে ছাগল বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে চা শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, “চা শ্রমিকদের উন্নয়নকে আমরা সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি। তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে তারা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চা শ্রমিকদেরও উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। সে লক্ষ্যেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলার পর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন চা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভূমির অধিকার নিশ্চিত হলে এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান আরও উন্নত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।







