শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুর গারো পাহাড়ে দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসব শুরু 


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ দুপুর

 শেরপুরের গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিও’র খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে দুই দিনব্যাপী ‘ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’র তীর্থোৎসব শুরু হয়েছে।  

এই তীর্থোৎসবকে ঘিরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শেরপুর সীমান্তের বারোমারি ধর্মপল্লী এবং আশপাশ গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। তীর্থোৎসবের একদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিস্ট ভক্তরা আসতে শুরু করে। প্রশাসন থেকেও প্রায় অর্ধ লক্ষ পুণ্যার্থীর এই উৎসবকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব। শুধু শেরপুর নয়, দেশ বিদেশের হাজার হাজার  পুণ্যার্থী অংশ নেয় এই তীর্থ যাত্রায়। 

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় খ্রিস্টযোগ বা প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় আলোর শোভাযাত্রা, মহাখৃস্টযোগ, পাপস্বীকার, নিশি জাগরণ এবং শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এবার অনুষ্ঠানে প্রধান পুরোহিত হিসেবে রয়েছেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ পনেল পল কুবি সিএসসি । 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগতদের জন্য রয়েছে থাকা ও খাওয়ার আলাদা ব্যবস্থা। তীর্থোৎসের পাশের মাঠে বসেছে খ্রিস্ট ধর্মীয় ভিন্ন পণ্য সামগ্রী, গারো সম্প্রদায়ের নারীদের ব্যবহারের ঐতিহ্যবাহী নানান পোশাক, চুরি-মালা, বাসা-বাড়ির আসবাবপত্র, শো-পিস,‌‌ শিশুদের নানান খেলনা সহ বিভিন্ন পণ্যের মেলা। এই মেলায় খ্রিস্ট ভক্ত গারো সম্প্রদায় ছাড়াও বাঙ্গালী মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভিড় করেন। এতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উৎসবটি হয়ে ওঠে সর্বজনীন উৎসবে।

আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারোমারী মিশনের ফাদার তরুণ বানোয়ারী বলেন, অন্যান্য বারের মত এবারের আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং দেশের পরিস্থিতিও খুবই ভালো থাকায় আমরা আশা করছি ভাব গাম্ভীর্য এবং শান্ত প্রিয় ভাবে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারব। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিষ্ট ভক্তরা মিশনের মাঠে চলে এসেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আমাদের এই উৎসব পরিদর্শন করেছেন। 

এদিকে তীর্থ উৎসবে পুলিশসহ জেলার অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো পল্লী থাকবে গোয়েন্দা নজরদারীতে। একই সাথে থাকছে সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে নজরদারি। 

এই উৎসবকে ঘিরে শেরপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, এবার উৎসবকে ঘিরে পোশাকি এবং সাদা পোশাকে প্রায় চার শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন বাহিনী সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। আশা করি খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায় মানুষ উৎসবের মুখেই অনুষ্ঠান শেষ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বারমারী সাধু লিওর এ ধর্মপল্লীটি ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক তীর্থ স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের বুকে পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে তৈরি এই ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তীর্থযাত্রা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত