পূর্বধলায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বললেন ছাত্রদল নেতা
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় অপহরণচেষ্টা, হামলা, দোকান ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগকে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন পূর্বধলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবায়েত খান শান্ত। একটি পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুবায়েত খান শান্ত। এ সময় তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে রুবায়েত খান শান্ত বলেন, তাঁর চাচাতো ভাই হাসিম খানের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৫ অক্টোবর বনপাড়া এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে হাসিম ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। তাঁদের মেয়ে ঐশী গত ২৫ অক্টোবর সকালে ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে পূর্বধলা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে ঐশীকে বাড়িতে ফেরানোর পথে বনপাড়ায় তার নানার বাড়ির সামনে মেয়েকে নিজেদের কাছে রাখা নিয়ে হাসিম ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয় এবং মুকুল নামে এক ব্যক্তি তাঁর গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ করেন রুবায়েত খান শান্ত।
ছাত্রদল নেতার দাবি, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হলেও প্রথম দিকে চাঁদাবাজি বা লুটপাটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। পরে পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি এসব অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ইলাশপুর চৌরাস্তা বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে হেনা আক্তার, মনজুরুল হক ও এলাকাবাসী অপহরণচেষ্টা, দোকান ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলেন।
ওই সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনপাড়া গ্রামে হেনা আক্তার, তাঁর মা ও মেয়েকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। একই দিন রাতে ইলাশপুর চৌরাস্তা বাজারে মনজুরুল হকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও তোলা হয়।
এ ঘটনায় রুবায়েত খান শান্তসহ জ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ অপহরণচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছে; অন্য পক্ষ ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে বর্ণনা করে রাজনৈতিক অপপ্রচারের অভিযোগ করেছে।




_medium_1793113825.jpg)


