পূর্বধলায় পৈতৃক বাড়ি মেরামতে বাধা, বেড়াহীন ঘরে চরম দুর্ভোগে পরিবারটি
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ বিকাল

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পৈতৃক বসতবাড়ি মেরামতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘরের মেঝে মেরামতের জন্য বেড়া সরিয়ে নেওয়ার পর নতুন করে মেরামতের কাজ করতে না পারায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বেড়াহীন ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের বন্দেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল বাশার (৫০) গত ২৭ অক্টোবর প্রতিপক্ষের আটজনের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই বসতবাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একই গোষ্ঠীর সদস্য এবং পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁর বসতবাড়িসংলগ্ন ২৫ শতাংশ পুকুরের জমি নিয়ে নূর মোহাম্মদ, হালিম মিয়া, সুলাইমানসহ আটজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
আবুল বাশারের অভিযোগ, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলিলপত্র উপস্থাপন এবং জমি মেপে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষ জমি মাপতে বাধা দেন এবং সালিশের সিদ্ধান্ত মানেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর পুরোনো বসতঘর মেরামতের কাজে বাধা দিচ্ছেন। এ নিয়ে একাধিকবার দেনদরবার করেও কোনো সমাধান হয়নি। ঘরের মেঝে মেরামতের জন্য বেড়া সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে নতুন করে ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না তিনি। এ সময় তাঁকে একাধিকবার হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবুল বাশার।
ঘরের বেড়া না থাকায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে খোলামেলা অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছে তাঁর পরিবারকে। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পাশাপাশি ঘরে বেড়া না থাকায় আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির আশঙ্কাও করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।
আবুল বাশারের দাবি, অন্য জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা থাকলেও যে বসতঘরটি তিনি মেরামত করতে চান, সেই জমি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। তারপরও প্রতিপক্ষের বাধার কারণে ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর গত ২৮ অক্টোবর পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ঘর নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষ আবারও ২৯ অক্টোবর বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, পুরো জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁরা ঘরটি নির্মাণ করতে বাধা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ সময় ঘর নির্মাণে বাধা না দেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষকে বলা হয়েছে। এরপরও পুনরায় বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

_medium_1793269709.jpg)
_medium_1793269157.jpg)
_medium_1793268916.jpg)
_medium_1793268707.jpg)
_medium_1793268556.jpg)
