বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম

পরিবেশ দুষনে সরকার ও ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষসহ সকলেই দায়ী-  বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম


  আবুল বাশার শেখ

প্রকাশ :  ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ দুপুর

পরিবেশ দুষনে সরকার ও ফ্যাক্টরীর মালিকসহ আমরা সবাই দায়ী। বিগত সরকার ১৫ বছর কি করেছে তা নিয়ে কথা বলতে চাইনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে। শিল্প কারখানার রাসায়ানিক বজ্য খাল, নদী ও কৃষকের জমিতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা ফসলী জমিতে কারখানার বজ্য বন্ধ করতে আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছেন। আর কোন শিল্পের বর্জ্য যাতে নদী, খাল বিল ও কৃষকের জমিতে না যায় সকলকে ঐক্য বদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।

পানি দূষন বন্ধে ইটিপির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী, চেষ্টা করব নতুন করে মিল কারখানার কোনো দূষিত বর্জ্যের পানি আশপাশের কৃষকের জমিতে না যায়। তার জন্য কারখানার এলাকায় টিম গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বুধবার (২৪জুন) দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদের হল রুমে পরিবেশ দূষনে ক্ষতিকর ও উত্তরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে অংশীজনদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভালুকার শিল্পাঞ্চলের আশেপাশে যত প্রাণ প্রকৃতি আছে বিশেষ করে পানির সাথে সম্পৃক্ত প্রায় সবই বিলীনের পথে। কারণ আজকে যে জায়গা পরিদর্শন করেছি। কারখানার আশপাশের এলাকায় দূষিত বর্জ্যে সয়লাব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভরাডোবা এলাকার এক্সপেরিয়েন্স, হ্যারী ফ্যাশন ও মুলতাজিম নামের তিনটি কারখানার কারণে আশপাশের প্রায় সাড়ে তিনশত একর জমি দূষিত বর্জ্যের কারণে অনাবাদি রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার পরিবারের লোকজন। এসব কারখানার লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। কারখানার দূষিত বর্জ্যের নির্গত পানির নালাগুলো আজকের মধ্যে সীলগালা করে দিতে হবে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে ওই সব কারখানা বন্ধের হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই কারখানার দূষিত বর্জ্যে খাল,নদী, আশপাশের জমিসহ কোনো জলাশয়ে যেন ফেলা না হয়। আমরা চাই না কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ হতে। এখানে ডায়িং ফ্যাক্টরীসহ অন্যান্য যে সব শিল্প কারখানা আছে সেগুলো অবশ্যই কেমিক্যাল ব্যবহার করছে। এগুলো কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিত ভাবে নদী খাল বিল ও জলাশয়ে ফেলা যাবে না। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো এই বিষয় গুলো পর্যবেক্ষণ রাখার জন্য। এ ক্ষেত্রে পরিবেশের কর্মকর্তারা যদি সহযোগিতা না করে তাহলে তাদেরকে আমরা এখানে রাখবো না। অবশ্যই পরিবেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে আরেক জনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।  

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এত সুন্দর সুজলা, সুফলার এই জনপদকে বিরামহীন করা যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এতটুকু বলব প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা যে দিয়েছেন, তার আলোকে যত তথ্য উপাত্ত আছে সেটা সঠিক ভাবে তুলে ধরবো এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো ফিরোজ হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কামরুল হাসান পাঠান কামাল, উপজেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমীন, মো. শামছুদ্দিন মন্ডল, মোহাইমেনুল ইসলাম তালুকদার, আবুল বাসারসহ এক্সপেরিয়েন্স কারখানার আইন উপদেষ্টা এজাজ উদ্দিন, মুলতাজিম মিলের প্রতিনিধি পুলকময় মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত