ঝিনাইগাতীতে মধ্যরাতের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধতা, বিপর্যস্ত জনজীবন
মনিরুজ্জামান মনির, ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০২:২৪ দুপুর
_original_1781338972.jpg)
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মধ্যরাতে টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সদর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাত হঠাৎ করেই শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। কয়েক ঘণ্টার এই টানা বৃষ্টির সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা ঢল যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলে। এতে ঝিনাইগাতীর মহাবিশ্ব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নদীর আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে থাকে।

পানি বাড়তে থাকায় নদী তীরবর্তী বসতবাড়িতে রাতের মধ্যেই পানি ঢুকে পড়ে। অনেক পরিবারকে তড়িঘড়ি করে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। কেউ কেউ ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রাত পার করেছেন। আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঝিনাইগাতী সদর বাজার, দিঘিরপাড়সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে গিয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাজারের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা রাতেই দোকানের মালামাল উঁচু স্থানে তোলার চেষ্টা করেন, তবে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল নামলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ফলে এলাকাবাসী সবসময় এক ধরনের আতঙ্কে দিন কাটান। অনেকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, রাত থেকে পানি বাড়তে দেখে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, ঘুমসহ দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক প্রতিনিধি বলেন, রাতে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী পানি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করে। তো বৃষ্টি যদি না হয় তাহলে ধীরেধীরে পানি কমে যাবে।







