শেরপুরে অবশেষে স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ হচ্ছে
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২০ দুপুর

একটি মেডিকেল কলেজ, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রেল লাইন ও পর্যটন জেলার দাবী দীর্ঘ দিনের। কিন্ত বারবার উপেক্ষিত থেকেছে। এবার কি তবে শেরপুরে মেডিকেল কলেজ হচ্ছে? খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে নাম প্রকাশ না করা শর্তে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন আমলা বলেছেন সরকার শেরপুরে মেডিকেল কলেজ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামি ৩ মার্চ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল শেরপুরে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রাথমিক পরিদর্শন করবে। পরিদর্শন শেষে ৭ কর্ম দিবসের এ সংক্রান্ত মতামত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে সরকার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রতিনিধি দলে সভাপতি হিসেবে থাকছেন পরিচালক (প্রশাসন),স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, সদস্য ডিন ফ্যাকাল্টি অফ মেডিসিন, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষ জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আরো ৫ জন।
জানা গেছে, বৃটিশ আমল থেকেই শেরপুর কৃষি প্রদান ও খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা। ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেষা জেলাটি খাদ্য উদ্বৃত্ত হলেও উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এই জনপদের। গত ২৫ বছর জেলায় ডাক সাইটের মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরি ও সংসদরে হুইপ আতিউর রহমান আতিক জেলার একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও জেলা হিসেবে কোটা ভিত্তিক যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ওই দুই মন্ত্রীর সাপে-নেউলে সম্পর্ক থাকায় তাও হয়নি। দাবী থাকলেও আন্দোলন হয়নি।
তবে গত বছরের ১৫ মে শেরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জেলার সর্বস্তরের মানুষের অংশ গ্রহনে ১৪ কিলোমিটার ব্যাপি মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে শেরপুরে মেডিকেল কলেজসহ ৫ দফা দাবী সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয় অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে। গত অন্তবর্তি কালিন সরকার ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর দেশে আরও ১৫টি জেলায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্ত সেই সিদ্ধান্তের কোন অগ্রগতি হয়নি।
গত ২২ ফেব্রোয়ারি বর্তমান সরকার শেরপুরে মেডেকেল কলেজ ও হাসপাতাল করতে ওই প্রতিনিধি দলকে কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।শেরপুরে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হতে যাচ্ছে এমন খবরে জেলাবাসি যার পর নেই, আনন্দিত বলে জানিয়েছে শেরপুরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিক ও পেশাজীবিরা।
এ বিষয়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, শেরপুরের বিশিষ্ট নাগরিক এটিএম আমির হোসেন, জৈষ্ঠ্য নাগরিক আব্দুস ছালাম বিএসসি জানিয়েছেন, বিএনপি সরকারের ১৫দিনই হয়নি, জন আকাঙ্খাকে সন্মান করে শেরপুরের জন্য সরকারের এই উপহার শেরপুর বাসি মনে রাখবে।
ওই প্রতিনিধি দলের সদস্য জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, চিঠি পেয়েছি। সরকারের নিদের্শ মত পরিদর্শন করা হবে এবং রিপোর্ট দিবো। সরকারি স্বার্থ, জনগনের সুবিধা সব মিলিয়ে একটি গঠন মুলক পজিটিভ মতামত আমরা দিব। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ হবে এটা অবশ্যই শেরপুর বাসির জন্য খুশির খবর।
উল্লেখ্য, শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও এখনো ১০০ শয্যার লোকবল দিয়ে দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। যার ফলে প্রতিদিন ৫০০ শতাধিক রোগী ভর্তি এবং চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়াও ভৌগোলিকগত কারণে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর, জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার আংশিক এলাকার মানুষ শেরপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসেন। যার ফলে এই হাসপাতালটি এখন রোগীদের অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা সেবা একেবারেই ভেঙে পড়েছে।


_medium_1772077000.jpg)

 (1)_medium_1772019291.jpg)


