বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২
শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগরের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা


  মো: মিনারুল ইসলাম

প্রকাশ :  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ দুপুর

দামুড়হুদা, জীবননগর ও দর্শনা পৌরসভা ও চুুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন সহ মোট ২১ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদীয় আসন।

 ভারতের সীমান্তঘেঁষা এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে গড়ে ওঠেনি কাঙ্ক্ষিত কল-কারখানা, সৃষ্টি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। ফলে বেকারত্ব এই অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কর্মসংস্থানের অভাবে এখানকার কিছু মানুষ অবৈধ ব্যবসার দিকেও ঝুঁকে পড়েছেন।

তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এবার এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়নের সুযোগ এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবকেরা। 

তারা বলছেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি। তিনি এমপি নির্বাচিত হলে এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক উন্নয়ন বাস্তব রূপ পাবে।

মাহমুদ হাসান খান বাবু ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রচারণায় বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে স্থানীয় বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি চুয়াডাঙ্গা কৃষিনির্ভর এলাকায় হওয়ায় এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। এই অঞ্চলের নারীরা পর্দাশীল হওয়ায় তাদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল হাসপাতালের ব্যবসা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া শ্রমিকদের জন্য ট্রেনিং সেন্টার চালুর ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সম্প্রতি জীবননগরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘আমরা চাকরি করি না এটা আমাদের অন্যতম গর্বের বিষয়। কিন্তু সমাজে আমরা যারা শিল্প পরিচালনা করি আমাদের মূল্যায়ন ওইভাবে করা হয় না। হয়রানি করা হয়। বিভিন্নভাবে অপমানিত করা হয়। বলা হয় ব্যবসায়ী মানে কর ফাঁকিবাজ। ব্যবসায়ী মানে আমরা দুর্নীতি করি। আমরা ব্যাংকের টাকা মেরে দিই। এই জায়গারও পরিবর্তন হইতে হবে। পরিবর্তনটা হতে হলে ভালো কাজটা নিজের ঘর থেকেই করতে হবে। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। সেই সমাজ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে আমরা যারা রাজনীতি করি তাদেরকে।’

স্থানীয় যুবক রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা পড়াশোনা শেষ করে কাজের জন্য বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছি। যদি এখানে শিল্পকারখানা হতো, তাহলে আমাদের আর এলাকা ছাড়তে হতো না। সম্প্রতি বাবু খানের বেশ কয়েকটি বক্তব্য শুনেছি। আমার মনে হয়েছে তিনি আমাদের এই সমস্যাটা বোঝেন।’ জীবননগর বাজারের ব্যবসায়ী মতিউর বলেন, ‘আমরা ব্যবসা করি, মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করি।  কিন্তু নানা অজুহাতে আমাদের হয়রানি করা হয়। বাবু খান যদি এমপি হন, তাহলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে- এটা আমরা বিশ্বাস করি।’

দর্শনার এক তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাবু খান শিল্প ও রপ্তানির সঙ্গে জড়িত।  তিনি জানেন কীভাবে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়। আমরা চাই তিনি এমপি হয়ে এখানে কল-কারখানা আনুন, যাতে যুবকেরা অবৈধ পথে না যায়। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে যদি পরিকল্পিত শিল্পায়ন, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হয়, তাহলে চুয়াডাঙ্গা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত