পোস্টার ছাড়াই চলছে নির্বাচনী প্রচারনা! উৎসবে ভাটা
মো: জায়েজুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৮ দুপুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণার পূর্বধলায় নির্বাচনী প্রচারনা বেশ জমে উঠেছে। তবে এ বছর নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী প্রচারে পোস্টার না থাকায় নির্বাচনী প্রচারানার উৎসবে কিছুটা ভাটা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও ছাপা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
১৬১, নেত্রকোনা ৫, পূর্বধলা আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্দিতা করছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ¦ আবু তাহের তালুকদার, ১১দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী. সহকারী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ইসলামী আন্দোলন থেকে মনোনীত প্রার্থী মাও: নূরুল ইসলাম হাকীমি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এ সকল প্রার্থীরা লিফলেট, নির্ধারিত সময়ে মাইকিং, কাপড়ের ব্যানার, বিলবোর্ড সাটানোর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে আসছেন।
এতে অন্যান্য সময়ে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানসহ পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে প্রার্থীদের পোষ্টার শোভা পেত। এর মাধ্যমে পুরো উপজেলায় নির্বাচনী উৎসব বিরাজ করত। কিন্তু এ বছর নির্বাচনী আচরণ বিধিতে পোষ্টার নিষেধ থাকায় নির্বাচনী প্রচারনা উৎসবের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে প্রচারানার কাজে বিলবোর্ড যোগ করার বিষয়টিকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।
প্রচারে পোস্টার না থাকার বিষয়ে সাধারন ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। উপজেলা ঘাগড়া ইউনিয়নের মেঘশিমুল গ্রামের ভোটার মোখলেছুর রহমান বলেন, পোস্টার প্রচলন না থাকায় সুন্দর পরিবেশ বজায় রয়েছে। প্রার্থীদের পোস্টার সাটানোর কোন প্রতিযোগিতা নেই। এতে তাদের নির্বাচনী ব্যয় কিছুটা কমবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার বিপরীত মন্তব্য করেন বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা গ্রামের ভোটার মো: আবুল কাশেম। তিনি বলেন, পোষ্টার না থাকায় এবারের নির্বাচনী প্রচারে কিছুটা উৎসবের আমেজে ভাটা পড়েছে। পোষ্টার থাকলে নির্বাচনকালীন সময়ে কিছুটা উৎসব উৎসব বিরাজ করত। এখন তেমনটা মনে হচ্ছে না।
ময়মনসিংহের মোহনা প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী হাজী মাজহারুল ইসলাম খোকন বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রচারের জন্য পোষ্টার না থাকায় আমরা হতাশ হয়েছি। পোষ্টার ছাপানোর প্রচলন থাকলে, সারা দেশে সংল্লিষ্ট প্রিন্টিং প্রেসের মালিক ও এর সাথে জড়িত হাজারো কর্মচারীরা অনেকটা উপকৃত হতো। ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়ে তিনি দ্বিমত করে বলেন এ বছর পোষ্টার না থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে অনেক প্রার্থী নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার আগেই ৪ রঙ্গের পোষ্টার টানিয়ে প্রচার করে টাকা ব্যয় করতে দেখা গেছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, পোষ্টার ছাপাতে প্রচুর পরিমান কাগজের প্রয়োজন পড়ে। আর কাগজের কাঁচামাল হিসেবে গাছ ব্যবহার হয়ে থাকে। আর গাছ কাটায় পরিবেশ বিপন্ন হয়। তাই কাগজ ও কাঁচমাল গাছের কথা চিন্তা করে এ বছর নির্বাচন কমিশন পোস্টার ছাড়া নির্বাচনী প্রচারনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রচারানার উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়লেও কোন সমস্যা হচ্ছে না।

_medium_1770310047.jpg)





