গাইবান্ধায় আবাদি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক
আসাদুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৯ রাত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান কাটার মৌসুম শেষ না হতেই আবাদি জমির মাটি বিক্রির অবৈধ তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ী সহজ-সরল ও অসচেতন কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি স্বল্পমূল্যে কিনে তা ভেকু দিয়ে কেটে ইটভাটা ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অধিক দামে বিক্রি করছে। এতে কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন হচ্ছে জমির শ্রেণী।কেউ কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে রাতের আধারে ভেকু দিয়ে কেটে নিচ্ছে নদীর তীর(পাড়)।
এতে বাঁধা দেওয়ায় হেনস্তার স্বীকার হয়েছে একাধিক ব্যক্তি। প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে,জমির উপরিভাগের এই টপ সয়েলই ফসল উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ অংশ কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
জমির শ্রেনী পরিবর্তন করতে নেই কোন সরকারি অনুমোদন।অবৈধ যান চলাচলে ভাঙছে রাস্তা মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও ট্রলি সংযুক্ত অবৈধ যান চলাচলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন পাকা ও কাঁচা গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ছে।কোথাও কোথাও রাস্তার বড় অংশ ভেঙে গিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পবনাপুর ইউনিয়নের বরকতপুর গ্রামে অবস্থিত ইটভাটাটি এখন অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। স্কুল গামী ছাত্র ছাত্রীরা মরণব্যাধি কাকড়ার দাপুটে রাস্তায় চলাচল করতে পারছে না। সৃষ্ট ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারকে বারবার মেরামতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তারা আরও বলেন গ্রামের মধ্য কিভাবে এসব ভাটায় ইট পোড়ানো হয়।
এলাকাবাসী প্রশাসনের উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,দূরত্ব ভাটা বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি হবে বলে জানান।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, দ্রুত ইটভাটাটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



_medium_1772521135.jpg)



