রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় এইচএসসিতে তিন কলেজের কেউ পাস করেনি


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ বিকাল

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার সাতটি কলেজের ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৯২৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৭৪২ জন। সে হিসাবে সম্মিলিত পাসের হার ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলপত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি কলেজের মধ্যে রাবেয়া আলী মহিলা কলেজে পাসের হার সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৯ জন। তবে এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

অন্যদিকে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে হাফেজ জিয়াউর রহমান কলেজ (শ্যামগঞ্জ) উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৭৬ জন। পাসের হার ৪২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ কলেজ থেকেই সর্বোচ্চ সাতজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

পূর্বধলা সরকারি কলেজের ৯৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৪৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া জটিয়াবর কলেজের চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

তবে উপজেলার তিনটি কলেজে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে জোবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজের ছয়জন, অ্যাম্বিশন মডেল কলেজের ১৬ জন এবং খলিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের চারজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সাতটি কলেজে মোট ২ হাজার ১২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৯২৬ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৮৬ জন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৪২ জন উত্তীর্ণ হলেও অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ জন।

সামগ্রিক ফলাফলে দেখা গেছে, উপজেলার সাতটি কলেজের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। পাশাপাশি মোট পরীক্ষার্থীর অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হওয়া এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা মাত্র ১১-তে সীমিত থাকা উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত