শেরপুরে সার নিয়ে জামাত নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস। সরব প্রশাসন। নিরব বিএনপি!
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ দুপুর

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সংকট নিয়ে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের জামায়াতের এমপি প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রোববার তার ফেসবুক পেইজে “ধানের সরকার কৃষককে সময়মতো সার দিতে বরাবরের ন্যায় চরমভাবে ব্যর্থ এবং লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছেনা সার... আপনার এলাকার কি অবস্থা...?” এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর কমেন্টসে এসে অসংখ্য মানুষ নানা রকম মন্তব্য এবং ছবি ও ভিডিও সংযুক্ত করেন। এসব ভিডিও ও ছবি কিছুক্ষণের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর সাথে সাথেই মাঠে নেমে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
বিশেষ করে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, নালিতাবাড়ী উপজেলার ইউএনও আব্দুল মালেক, কৃষি কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সবাই মাঠে নামেন ঘটনার সত্যতা নিরূপণ এবং মনিটরিং এর জন্য। দিনব্যাপী মনিটরিং শেষে দেখা যায় কোথাও সার সংকট নেই, সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিশেষ জামায়াত নেতা গোলাম কিবরিয়ার স্ট্যাটাস অনুসারে নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়নকূরা ইউনিয়নের কদমতলী বাজারে মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্স এর বিএডিসি সার ডিলার মো: ফিরোজ মিয়ার স্টোরে সার না পেয়ে অসংখ্য কৃষক ফিরে যাচ্ছে এরকম কথা চাউর হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় ওই সার ডিলার ২০১ বস্তা ডিএপি সার বরাদ্দ পায়। কিন্তু হঠাৎ করে গ্রামের প্রায় আড়াইশো কৃষক এক যোগে ওই স্টোরে সার নিতে আসে। এতে ২০১ বস্তা বরাদ্দের সার শেষ হয়ে গেলে বাকিরা সার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডিলার পরের দিন সার দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলে তারা চলে যায়।
এ বিষয়ে জেলা জামাতের সহকারি সিকিউরিটি জেনারেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, নালিতাবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে তাই আমি ওই ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি।
এ বিষয়ে ওই সার ডিলার ফিরোজ মিয়া বলেন, আমাদের এখানে জামাতের একটি চক্র কৃষকদের মাঝে গুজব ছড়ায় সার সংকটের। তাই কৃষকরা হুমড়ি খেয়ে আসে আমার দোকানে। অথচ স্বাভাবিক ভাবে কৃষকরা আসলে আমার ২০১ বস্তা সার বিক্রি করতে দুই থেকে তিন দিন লাগতো।
এদিকে এসব গুজবের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সার সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তারা তৎপর হয়ে দিনব্যাপী মাঠে থাকলেও সরকার দলীয় বিএনপি নেতারা কর্মীরা এখনো নিরব ভূমিকা পালন করছে। এ নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার তৃণমূল বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে নানা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী শহর বিএনপি'র সাবেক আহ্বায়ক এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র ভিপি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের এই উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবত কোন কমিটি নেই এখানে আমাদের এমপি মহোদয় তার একক সিদ্ধান্তের সকল কিছু করছেন। সারের এসব বিষয়ে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।
এদেশে নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, আমি সার-বীজ কমিটির সদস্য হিসেবে শুরু থেকেই সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় তৎপর রয়েছি। তবে জামাতিরা স্বাধীনতা যুদ্ধ দেশবিরোধী ছিল এখনো আছে।
এ বিষয়ে শেরপুর-২ আসনের এমপি ফাহিম চৌধুরী বলেন, জামায়াতে প্রপাগান্ডার কথা শুনেছি। আমি সারের মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিং করেছি। প্রয়োজনে আবারো করব। আমাদের উপজেলা তো আছেই জেলার কোথাও সার সংকট নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু থেকেই আমরা কৃষি বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে রয়েছি। গতকাল আমি এবং কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এবং ইউএনওকে সাথে নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে মনিটরিং করেছি। এছাড়া পুরো জেলায় ইউএনও এবং কৃষি কর্মকর্তারা পৃথক পৃথক টিম গঠন করে রাত পর্যন্ত মনিটরিং কাজ করছে। কোথাও কোন সারের জন্য লাইন বা সংকটের তথ্য আমরা পাইনি। আমাদের পর্যাপ্ত সারের মজুদ রয়েছে।


_medium_1788775357.jpg)
_medium_1788755426.jpg)

_medium_1788754864.jpg)

