শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় রাস্তার পাশে পুকুর, ভাঙছে সড়ক, মেরামতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা


  মো: জায়েজুল ইসলাম

প্রকাশ :  ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ দুপুর

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য পুকুর। অনেক ক্ষেত্রেই রাস্তার একেবারে পাশ ঘেঁষে পুকুর খনন করে সড়ককেই পুকুরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পুকুরের পাড় ভেঙে সড়কে ধস ও ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে সড়কগুলো। পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের সঙ্গে ভাঙন ঠেকাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে প্যালাসাইডিং নির্মাণ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

সরেজমিনে পূর্বধলা সদর থেকে ঘাগড়া পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে ছোট-বড় শতাধিক পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরের অনেকগুলোই সড়ক থেকে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় না রেখেই খনন করা হয়েছে। মাছ চাষের কারণে পুকুরের পাড় নরম হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়ছে। এতে সড়কের অংশবিশেষ পুকুরে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে প্রতিবছরই কোনো না কোনো স্থানে সড়ক ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। এসব ভাঙন মেরামতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাঙনপ্রবণ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পড়ছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

পূর্বধলা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এলজিইডির আওতাভুক্ত মোট ১ হাজার ৬৬ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৬ কিলোমিটার পাকা এবং বাকি সড়ক কাঁচা। এসব সড়কের অনেক অংশের পাশেই সড়ককে পুকুরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করে পুকুর খনন করা হয়েছে।

পূর্বধলা-কাপাশিয়া, পূর্বধলা-হিরনপুর ভায়া ইচুলিয়া, পূর্বধলা-সরিস্তলা, পূর্বধলা-বিষমপুর ও পূর্বধলা-ধলামূলগাঁওসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কাঁচা-পাকা গ্রামীণ সড়কের পাশেও একই চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেও রয়েছে অসংখ্য পুকুর। এসব পুকুরে মাছ চাষের কারণে পাড় দ্রুত ভেঙে পড়ছে। আবার পুকুরের পাড়ে লাগানো গাছ ভেঙে পড়লেও অনেক সময় সড়কের ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে।

ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন ফকির বলেন, রাস্তার পাশে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় না রেখে পুকুর নির্মাণের কারণে কিছুদিন পরই ওই অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এতে যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়, দুর্ঘটনাও ঘটে। পরে সড়ক সংস্কারের সময় সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই রাস্তার পাশে পুকুর নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখার দাবি জানান তিনি।

পূর্বধলা থেকে ঘাগড়া সড়কের পাশে বড় পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন- এমন একজন পুকুর মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাস্তা নির্মাণের সময় আমরা জায়গা দিয়েছি। তাই এখন অবশিষ্ট জায়গা না রেখেই পুকুর নির্মাণ করে মাছ চাষ করছি।”

বিশকাকুনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আল আমিন বলেন, “রাস্তার পাড় বানিয়ে পুকুর নির্মাণের কোনো বিধান নেই। পুকুর নির্মাণ করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।”

পূর্বধলা উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ খন্দকার বলেন, “আঞ্চলিক বা গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশের ১০ ফুটের মধ্যে কোনো পুকুরের পাড় বা স্থাপনা রাখা যাবে না। পুকুর নির্মাণের ক্ষেত্রেও জমির মালিককে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।”

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত