চুয়াডাঙ্গায় দ্রুত পাসপোর্ট করে দেয়ার নামে প্রতারণা
মো: মিনারুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ দুপুর
_original_1788755426.jpg)
চার মাসেও পাসপোর্ট না পেয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দাবি; দালালের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকির অভিযোগ,
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্রের বিরুদ্ধে।
পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা মানুষকে টার্গেট করে চক্রটি নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে, পাসপোর্ট অফিসে প্রবেশের আগেই আবেদনকারীদের পথরোধ করে নিজেদের দালাল হিসেবে পরিচয় না দিয়ে নানা ধরনের সহযোগিতার কথা বলা হয়।
ফরম পূরণ, কাগজপত্রের ঘাটতি পূরণ, দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সব কাজের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কারও কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়ে পরবর্তী সময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ভিমরুল্লাহ এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি অবস্থিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসের আশপাশে কয়েকজন কথিত দালাল নিয়মিত অবস্থান করেন। নতুন কোনো আবেদনকারীকে দেখলেই তাঁরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের একজন দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত ইসরাফিল মল্লিকের ছেলে এনামুল হক। ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে এসে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনামুল হক বলেন, পাসপোর্ট অফিসে ঢোকার আগেই দালালচক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত সিরাজুল ইসলাম তাঁর কাগজপত্র নিয়ে নেন। দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ১২ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট না পাওয়ায় সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পাসপোর্টে সমস্যা রয়েছে এবং আরও ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান। পরে তাঁর কথামতো আরও ১২ হাজার টাকা দেন।
এনামুলের অভিযোগ, এভাবে মোট ২৪ হাজার টাকা দেওয়ার পরও প্রায় চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখনো তিনি পাসপোর্ট হাতে পাননি। বর্তমানে যোগাযোগ করলে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে ফোনে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি পাসপোর্টের কাজ সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। এ সুযোগে আমাকে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে। চার মাস পার হলেও পাসপোর্ট পাইনি। এখন আবার টাকা চাওয়া হচ্ছে।’
আরেক পাসপোর্ট প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম বলেন, দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
পাসপোর্টের সরকারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গার একজনের মাধ্যমে কাজ করি। ফাইলপ্রতি অল্প কিছু টাকা নিয়ে থাকি।
এনামুল হকের পাসপোর্টের বিষয়ে যে টাকার কথা বলা হয়েছে, আমি অল্প কিছু টাকা রেখে যাদের মাধ্যমে কাজ করি, তাদের দিয়েছি। প্রয়োজন হলে আপনি চুয়াডাঙ্গায় আসেন, তাদের সামনে মোকাবিলা করে দেব।’
এদিকে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেই পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। এ জন্য কোনো দালালের সহযোগিতা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম জাকির হোসেন বলেন, ‘দালালচক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাসপোর্ট করার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিলেই হবে। পাসপোর্ট করার জন্য দালাল ধরার কোনো প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, কোনো দালালের হাতে টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য তুলে না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের নিয়মিতভাবে সতর্ক করা হয়। পাসপোর্ট অফিসের নোটিশ বোর্ডেও দালাল থেকে সাবধান থাকার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া রয়েছে। আবেদনকারীদের সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাসপোর্ট তৈরির সরকারি প্রক্রিয়া সহজ হলেও তথ্যের ঘাটতি ও দ্রুত সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি পাসপোর্ট সেবার ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ভুক্তভোগী এনামুল হক তাঁর টাকা ফেরত পাওয়াসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



_medium_1788775357.jpg)

_medium_1788754864.jpg)

