বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম

সরকার আসে সরকার যায়, ‌ঝিনাইগাতীবাসীর দুঃখ থেকেই যায়!


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ বিকাল

 

রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি:  স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীতে শহর রক্ষার বাঁধ নির্মাণ না করায় এই নদী এখন জনগণের কাছে আর্শিবাদ না হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। একদিকে নদীটি খনন না করায় হারিয়েছে তার  নাব্যতা। অপরদিকে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় খরস্রোতা নদীটি একটি খালে পরিণত হয়েছে। যে কারণে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে অবিরাম বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা শহরের আশেপাশে বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙ্গে গিয়ে ঢলের পানি উপজেলার সদর বাজার, অফিস-আদালতসহ বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় সাধারণ মানুষ। তাই স্থানীয়রা একই সুরে বলছেন সরকার আসে সরকার যায় ঝিনাইগাতিরবাসির দুঃখ থেকেই যায়।

ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর দুই পাড়ে সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের উপর দিয়ে বয়ে গেছে মহারশি নদী।  কালের বির্বতনে খরস্রোতা নদীটি খনন না করায় হারিয়েছে তার নাব্যতা। অপরদিকে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় দিনে দিনে নদীটি সংকুচিত হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এতে বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। যে কারণে দু'পাড়ের কাঁচা বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অফিস, কোটি টাকা রাজস্ব্য আদায়ের সদর বাজার, নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের শত শত বাড়িঘরসহ হাজার হাজার একর ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করে। এতে বিপাকে পরে মানুষ। ক্ষয়-ক্ষতি হয় লক্ষ লক্ষ টাকাসহ রাস্তা ঘাটের। 

শুধু তাই নয়, বেড়িবাঁধ না থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি গ্রামসহ দিঘীরপাড় ফাযিল মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যে কোন সময় নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে রামেরকুড়া পুর্বপাড়া ও দিঘীরপাড় ফাযিল মাদরাসাসহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিবছর ঢলে ক্ষতিগ্রস্তের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সাময়িক নড়েচড়ে বসলেও পরে আর খবর থাকেনা। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই নদীতে বেড়িবাঁধের মাপযোগ করেই কাটিয়ে দিয়েছে প্রায় দুই যুগ। ফলে বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী এখন স্থানীয় জনগণের কাছে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। একই সাথে ঝিনাইগাতিবাসীর দুঃখও এখন এই মহারশি নদী।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রথম দফায় গত ১৩ মে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৩ জুন পাহাড়ি ঢলে মহাদেশ নদীর দু’পাড়ের বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দেয়। আর দু'একদিন ঢল অব্যাহত থাকলে ওইসব জায়গা ভেঙে আবারো বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যেতো। সামনে আবারও ঢলের আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর পাহাড়ি ঢল হয়েছিলো তিনবার। চলতি বছরেও আরো দু-এক দফা ঢলের আশঙ্কা রয়েছে।

এরমধ্যে দ্বিতীয় ঢলে ঝিনাইগাতি উপজেলার উপজেলার রামেরকুড়া পূর্বপাড়া, খৈলকুড়া, দিঘীরপাড় গ্রামসহ ৪টি জায়গায় ভেঙ্গে যায়। এতে দিঘীরপাড় গ্রামে তিনটি বাড়ীঘর ঢলের পানিতে দুমড়ে মোচড়ে ভেঙ্গে গিয়ে সেখানে গভীর খাদে পরিণত হয়। সেখানে আরো কয়েকটি বাড়ীঘর ব্যাপক হুমকির মুখে রয়েছে। পাহাড়ি ঢল আসা মানেই নদীর পাড়ে বসবাসকারি পরিবারগুলো আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

এ ব্যাপারে গ্রামবাসী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, আশ্বাসে আর প্রতিশ্রুতিতে কেটে গেছে প্রায় দুই যুগ। এখন আর আশ্বাস নয়, আমরা চাই বেড়িবাঁধ নির্মাণে বাস্তবায়ন। এর জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে নদী খননসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনুরোধ করছি। 

স্থানীয় নদী পাড়ের কামরুল, শহিদুল, মোবারকসহ অনেকেই জানায়, সরকার আছে সরকার চায় আমাদের এই মহারশি নদীর দুঃখ থেকেই যায়।

ঝিনাইগাতী বণিক সমিতির সভাপতি মোকসেদুর রহমান মোক্কু বলেন, প্রতি বছর পাহাড়ী ঢলের পানিতে নদীর পাড় ভেঙ্গে উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়ীঘর, ফসলী জমি, মাছের পুকুরসহ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। 

ঝিনাইগাতীতে প্রতিবছর এই ক্ষতি থেকে বাঁচাতে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয় উত্থাপন করেছেন। 

এছাড়া গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে ইউনিয়নবাসী মহারশি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধের নির্মাণের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, উপজেলাবাসীদের রক্ষায় এই নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছি। এছাড়াও ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ করা হয়েছে। আর দশভাগ কাজ শেষ হলেই প্রকল্পটি টেন্ডার এ যাবে। আশা করি এই অর্থ বছরেই  নির্মাণ করা হবে বেড়িবাঁধ। 

এদিকে শুধু আশ্বাস নয়, মহারশি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত