সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে কৃষকদের বিক্ষোভ


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলার জারিয়া ইউনিয়নে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণীত সরকারি কৃষি প্রণোদনার তালিকায় অনিয়ম ও  মনগড়া তালিকা প্রস্তুতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বঞ্চিত কৃষকরা। 

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের বোর্ডের বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম খান শমসের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতিবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও জারিয়া ইউনিয়নের জন্য প্রকাশিত ২৪২ জন উপকারভোগীর তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন ও লিমা আক্তার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির যোগসাজশে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে তালিকা প্রণয়ন করেছেন।

তিনি বলেন, "যেসব কৃষকের ফসলি জমির ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের অনেকের নাম তালিকায় নেই। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে মনগড়া তালিকা করা হয়েছে।"

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জারিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু ছিদ্দিক, কৃষক মঞ্জিল মিয়া, মানিক মিয়া, জুয়েল, মাওলানা নোমান, আব্দুল খালেক, আপ্তাব উদ্দিন, লাক মিয়া, আব্দুল মজিদ, শফিক, আবু ছিদ্দিক ও আব্দুল হাকিমসহ স্থানীয় কৃষকরা।

সমাবেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ভুয়া তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তারা।

কুতিরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “আমার ৬০০ শতাংশ জমির ধান সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ প্রণোদনার তালিকায় আমার নাম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই।”

আটারশিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “আমার ১৪৪ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু তালিকায় আমার নাম নেই। কোনো ধরনের সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।”

জারিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবু ছিদ্দিক অভিযোগ করেন, নোয়াপাড়া, কুতিরপাড়া ও আটারশিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার দাবি, শালদিঘা এলাকার মাসুদ ফকিরের বাড়ির ২২ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যাদের ফসলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে এ অভিযোগ নাকচ করে মাসুদ ফকির বলেন, “আমাদের শালদিঘা এলাকা নিচু হওয়ায় অতিবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির বেশির ভাগই আমাদের বাড়ির। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রণোদনার তালিকা প্রণয়ন করেছেন। যারা অভিযোগ করছেন, তারা প্রকৃত তথ্য না জেনে অথবা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।”

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেনও। তিনি বলেন, “হাওর মানবিক সহায়তা কার্ডের আওতায় প্রথম ধাপে জারিয়া ইউনিয়নের ২৪২ জন কৃষকের তালিকা স্বচ্ছতার সঙ্গেই প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা এখন অভিযোগ করছেন, তাদের অনেকে তালিকা প্রণয়নের পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। কৃষি বিভাগ কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি করেনি।”

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত