মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম

বাড়িতে আশ্রয়ের কথা বলে দেড়মাসের শিশুকে কোল থেকে ফেলে দিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষনের চেষ্টা, গ্রেফতার ১


  সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৯ মে ২০২৬, ০৩:২৩ দুপুর

আশ্রয় দেয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে দেড় মাসের এক শিশুকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে এক গৃহবধুকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দুয়া থানা পুলিশ, নেত্রকোণা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ চেষ্টাকারী  আব্দুর রউফ ভূঞা (৫৫), রউফকে গ্রেফতার করে মদন থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
 
ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ মে রোববার সন্ধারপর কেন্দুয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কৈজানী ফেরিঘাট সংলঘœ তাম্বুলিপাড়া এলাকায়। ঘটনাস্থলটি মদন উপজেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত। এ ঘটনায় এলাকার সকল মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। 
 
জানা যায় ওই গৃহবধুর বাবার বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায়। গত কয়েক বছর আগে প্রেম পরিনয়ে বিয়ে হয় নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়। বিয়ের পর দেড় মাস আগে এক সন্তান জন্ম নেয়। স্বামী-স্ত্রীতে ঝগড়া বিবাদের কারনে তিনচার দিন আগে ওই গৃহবধুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তালাক দেয় তার স্বামী। কিন্তু গৃহবধু দেড়মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে স্বামীর সংসারে থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাড়ি থেকে বের হন। 
 
তালাকপ্রাপ্ত ওই নারী নিরুপায় হয়ে রোববার বিকেলে তার বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। সন্ধার সাথে সাথে  তিনি কৈজানী ফেরিঘাট এলাকার তাম্বুলিপাড়ায় আসেন। ফেরীঘাট এলাকার মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ এর দোকানে বসে তার ঘটনাটি বলেন, এবং তার কিছু মালামাল ওই দোকনে রাখেন। গাড়ির অপেক্ষায় কেন্দুয়া উপজেলা সদরে যেতে দোকানে বসে থাকেন। ওই নারী জানান, এ সময় দোকানী আব্দুর রউফ সন্ধাবেলায় তার শিশুকে নিয়ে যেতে মানা করেন এবং তার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বলেন। আব্দুর রউফ এর প্রস্তাবে তিনি রাজি হলে আব্দুর রউফ তার দোকান ঘর বন্ধ করে ওই নারীকে নিয়ে সন্ধার পর তার বাড়িতে রওয়ানা দেয়। আব্দুর রউফ এর বাড়ি মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রামে। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আব্দুর রউফ ওই নারীর কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে একটি ধঞ্চা ক্ষেতের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয় এবং তাকে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়ে দস্তা-দস্তি শুরু করে। পুলিশ জানায়, ওই অবলা নারীর আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাকে ও তার শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় আব্দুর রউফ পালিয়ে যায়। নারীর মুখ থেকে দোকানদারের পরিচয় দেওয়ায় লোকজন আব্দুর রউফকে চিনতে পারে। ঘটনাটি জানাজানি হলে কিছুক্ষনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। বিষয়টি নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের নজরে আসে। কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃ মেহেদী মাকসুদ জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রউফকে চন্দ্রতলা গ্রাম এলাকা থেকে ভোর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসা করার পর মদন থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
 
মদন থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অসিম কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে সোমবার বিকালে তিনি জানান, এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে মদন থানায় ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি গ্রেফতারকৃত আব্দুর রউফকে নেত্রকোণা আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত