শেরপুর সীমান্তে বানের জলের মতো আসছে মাদক, হোতারা থাকছে অধরা
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ রাত

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা শেরপুরের তিনটি উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদক আসছে বানের জলের মতো। এসব মাদক উদ্ধারে সীমান্তের বিজিবি ও জেলার পুলিশ বাহিনী তাৎপর থাকলেও থামছে না মাদক কারবারীদের মাদকের চালান আসা। শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা সীমান্তের প্রায় ৪২ কিলোমিটার বনাঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই এসব মাদক উদ্ধার বা জব্দ করা হলেও কারবারের সাথে জড়িত মূল হোতাদের কাউকেই আজ পর্যন্ত শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারিনি বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুধুমাত্র মাঝেমধ্যে দুই এক জন মাদক বহনকারী ট্রাক ড্রাইভার, অটোচালক বা ভ্যান চালককে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তারা জামিনে বের হয়ে যায়। কিন্তু এসব মাদক চলনের সাথে জড়িত মূল হোতা বা গডফাদারদের কোন শনাক্ত করা যায়নি।
তবে সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ জানায়, অনেক সময় মাদকসহ কাউকে গ্রেফতার করা হলেও অর্থের বিনিময়ে ওই সব মানুষকে ছেড়ে দেয় সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আবার অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের খবর চোরাকারবারবাদীরা পূর্বে খবর পেয়ে ভারত থেকে পাচার করে আনা মাদক বন-জঙ্গলে ফেলে চলে যায়। যে কারণে মাদকের মূল হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, ভারতের ওপারে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ সদস্যরাও চোরাই পথে মাদক পাচার হয়ে বাংলাদেশের প্রবেশের ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে। কারণ তারা চায় বাংলাদেশের যুব সমাজ মাদক সেবনে বুদ হয়ে থাকুক। এতে বাংলাদেশের মেরুদন্ড ভেঙে পড়ুক।
ময়মনসিংহের ৩৯ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত সাড়ে আট মাসে পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে মোট ১৭ কোটি ১১ লাখ ৩ হাজার ২২০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। একই সঙ্গে এসব অপরাধে জড়িত ২৪ জন আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়জিদ বলেন, "সীমান্তে চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্গম পাহাড়ি পথকে যারা অপরাধের নিরাপদ রুট মনে করছেন, তাদের সেই আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। যারা আমাদের শিশু, কিশোর ও যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেইসব অপরাধী কিংবা তাদের পেছনের গডফাদার কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
বিজিবির প্রকাশিত দাপ্তরিক পরিসংখ্যানে উদ্ধারকৃত মোট মালামালের মধ্যে ৪ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য রয়েছে। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় ও অন্যান্য দেশি-বিদেশি পণ্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে পরিচালিত অভিযানে আরও ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮২০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত মোট ৪৩ জন আসামির তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে হাতেনাতে ২৪ জন আসামিকে আটক করে প্রচলিত নিয়মে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া বাকি ১৯ জন পলাতক আসামির নাম ও পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।







