রোগী নয়, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার
মোঃ হাসান খান
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৬ রাত

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ভুয়া প্রসূতী রোগী সাজিয়ে হাসপাতালের সরকারি এম্বুলেন্সের অবৈধ ব্যবহার করে চলছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোমেনুল ইসলাম
নেত্রকোণা কিংবা ময়মনসিংহ সহজে যাতায়াতের জন্য ডাক্তার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এমনটি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সাধারণ রোগীরা এম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্র জানা গেছে, একই কায়দায় মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোমেনুল ইসলাম নেত্রকোণা যাওয়ার পথে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের পাইলট স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় স্থানীয়রা এম্বুলেন্স আটক করে। এক পর্যায়ে সেখানে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাঃ মোঃ মোমেনুল ইসলাম এম্বুলেন্স থেকে দ্রুত নেমে পালিয়ে যান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আজ (৩০ নভেম্বর) রোববার সকাল ১১টার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ থেকে মাসুমের স্ত্রী প্রসূতি রোগী লিমা (২০), মোহনগঞ্জ সদর ওই ঠিকানা দিয়ে এম্বুলেন্স সেবা নেয়া হয়।
এসময় হাসপাতালে ডিউটিরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ দ্বীজেশ রঞ্জন ভৌমিক ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শাহজাহান সিরাজ জরুরী বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তারা দুইজনই গর্ভবর্তী (প্রসূতি) রোগী লিমার পেটের পানি ভাংছে এই তথ্য যোগ করে (রেজিস্ট্রার) ৯৬২/১নং ক্রমিক রোগীকে সেবা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে রেফার্ড করা হয়।
অনুসন্ধানে রোগী লিমা আক্তার (২০) এর কোনো কোন তথ্য উপাত্তের হুদিস পাওয়া যায়নি। বাস্তবে এ ধরনের রোগীর কোন অস্থিত্ব নেই।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শাহজাহান সিরাজ বলেন, ডাঃ দ্বীজেশ রঞ্জন ভৌমিক মৌখিক নির্দেশে আমি এ কাজ করেছি।
মেডিকেল অফিসার ডাঃ দ্বীজেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, আমি এম্বুলেন্সের ড্রাইভার মাসুমের কথামত রোগী সেবা দিয়ে রেফার্ড করার জন্য দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শাহজাহান সিরাজ'কে বলেছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোমেনুল ইসলাম বলেন, আমার নিয়মিত গাড়ী নষ্ট থাকায় এম্বুলেন্স ব্যবহার করি। এটি আমার অনিয়ম এই কথা বলেই তিনি এম্বুলেন্স থেকে নেমে দৌড়ে উধাও হয়ে যান এই কর্মকর্তা।







