২ কোটি টাকার স্কুল চোখের সামনে পদ্মা গিলে নিল

0
71

আরবান ডেস্ক : অবশেষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আজিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়টি চোখের সামনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১টার দিকে পুরো ভবনটি নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক চৌধুরী আওলাদ হোসেন বিপ্লব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিগার সুলতানা চৌধুরী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সবুজ হোসেন জানান, চারতলাবিশিষ্ট স্কুল ভবনটির শুধু একতলা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এক বছর আগে স্কুল প্রাঙ্গণ এলাকা ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়। সর্বশেষ রোববারও তারা স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন। একদিনের মাথায় মঙ্গলবার দুপুরে পুরো ভবনটি পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সবুজ হোসেন জানালেন, এক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড পক্ষ থেকে আজিমনগর উচ্চ বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তাদের অবহিত করা হয়, যেহেতু স্কুলটি পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থিত সেটি রক্ষার কোন প্রকল্প তারা নেবে না। এরপর থেকে ঊর্ধ্বমুখীকরণ কাজ সমাপ্ত না করার জন্য ঠিকাদারকে জানানো হয়। তিনি জানান, চারতলা নির্মাণ করতে সরকারকে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক চৌধুরী আওলাদ হোসেন বিপ্লব জানালেন, ২০০৩ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫০। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা হওয়ার আগে ৬ কিলোমিটার দূরে এনায়েতপুর গ্রামে ৮৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে কর্তৃপক্ষ। সেখানে তারা পরবর্তী স্থাপনা করবে বলে জানান। এবার এ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেবে ৪৮ জন শিক্ষার্থী।
তিনি আরও জানালেন, চরাঞ্চলের একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় ছিল এটি। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও রক্ষা সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতিকে দায়ী করেন। যে সব শিক্ষার্থী গত সপ্তাহে স্কুল করেছে। আজ সেখানে অথৈ পানি দেখা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না!
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা এনজিও কর্মী নাসির উদ্দিন জানালেন, স্কুলের অদূরে পদ্মা নদীতে অবৈধ ড্রেজিং করায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ জানালেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা (এসি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ তিনি সর্বশেষ গত সোমবার স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন। পদ্মার পানির যে স্রোত তাতে কোনোভাবেই স্কুলটি রক্ষা সম্ভব নয় মর্মে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন স্কুল ভবন পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনা শুনেছেন বলে জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সায়েদুর রহমান জানান, তাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে বারবার তাগিদ দিয়ে শেষ রক্ষা সম্ভব হয়নি চরাঞ্চলের একমাত্র হাইস্কুলটি। বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here