শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি পূরণে ধাপে ধাপে ভোগান্তি

0
164

মো: জায়েজুল ইসলাম: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য সন্নিবেশিত করার লক্ষে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ইউনিক আইডি তৈরীর কার্যক্রম চলমান আছে। বর্তমানে দেশের ময়নমনসিংহ ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম চলছে। এর জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ১৩এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু নানা জটিলতার কারনে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকদের। ভোগান্তির শিকার একাধিক শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে ইউনিক আইডি ফরম পুরনের জন্য বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ) এর ওয়েব সাইডের নির্ধারিত অপশনে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীর ৪টি ধাপে তথ্য সংযুক্তি করতে হয়। এই ৪টি ধাপে একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ২৫০টির মত তথ্য পুরণ করতে হয়। এ বিশাল তথ্য পুরণ করতে গিয়ে প্রতিটি ধাপে ধাপে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্ভার ও নেটওয়ার্ক জনিত জটিলতা, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র জনিত জটিলতা, শিক্ষার্থীর ছবি আপলোড, শিক্ষার্থীর ৬বছর আগের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত জটিলতা। এ যেন ভোগান্তির শেষ নেই। এ সকল সমস্যা কাটিয়ে একজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করতে গিয়ে কোন কোন সময় এক-থেকে দুই ঘন্টার অধিক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ইত্যাদি নানা জটিলতার কারনে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এই কাজে নিয়োজিত শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।এ সকল ভোগান্তির কারনে অনেকেই এ কাজের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। তারা এই কাজ আইসিটি শিক্ষক করবেন বলে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকেই।
ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন ফকির, আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক রিনা আক্তার জানান, তথ্য পুরণ করতে তাদেরকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বেশি ভোগান্তি হচ্ছে সার্ভার ও নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যার কারনে। তথ্য আপলোড করতে গেলে চাকা ঘুরতেই ঘুরতেই থাকে। অনেকক্ষন অপেক্ষা করে শেষে আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। তাছাড়া জন্মনিবন্ধন ভেরিফাই করতে গিয়েও হচ্ছে সমস্যা। অনেকেই অনলাইন জন্মনিবন্ধন দিলেও তথ্য খুঁজে পাচ্ছেনা সার্ভার। এতে বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হচ্ছে। অনেক অভিভাকের স্মার্ট আইডি না থাকায় পুরোনো আইডি জমা দিয়েছেন। এতে নির্ধারিত ডিজিটের অপশন না থাকায় তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নির্ধারিত সাউজ ও রেজুলেশনে ছবি দিলেও তা আপলোড নিচ্ছে না সার্ভার। তাছাড়া পুরাতন দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর জন্য ৬বছর আগে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফল নম্বরসহ সংগ্রহ করে আপলোড করতে হছে। যা অনেকের জন্যই খুবই দুরুহ কাজ।এক্ষেত্রে অনেকেই অনুমান নির্ভর তথ্য দিয়ে পুরণ করে কোনভাবে কাজ সারছেন।
পূর্বধলা জগৎমনি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জয় চন্দ্র পাল, জানান এই কয়দিনে অনেক কষ্ট করে ৫ জন শিক্ষক মাত্র ১০০জনের মত শিক্ষার্থীর তথ্য দিতে পেরেছি। এভাবে ১৩শর উপরে শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি ফরম পুরণ করতে হবে যা নির্ধারিত সময়ে কোনভাবেই সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার সকাল অবধি অনেক চেষ্টা করে সার্ভারে ঢোকাই যায়নি।
উল্লেখ্য ইউনিক আইডি পুরনে এর আগেও একাধিকবার সময় নির্ধারন করে সময় পেছানো হয়েছে। এখন বিভাগওয়ারী ভাগ করে সময় নির্ধারন করে দিলেও সেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অনেকেই বলছেন প্রথম পর্যায়ে ৪ধাপের এত বেশি তথ্য না দিয়ে শুধু এক ধাপের ফরম দিয়ে তথ্য পুরণ করে পরবতীতে প্রতি বছর তথ্য সংযোজনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে এমনটা হতো না। আর এভাবে অল্প সময় নির্ধারিত করে দেওয়ায় একসাথে বেশি হিট হওয়ায় সার্ভারে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শফিকুল বারী জানান, শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রদান শিক্ষা বিভাগের একটি গুরুত্বপুর্ন কার্যক্রম। একটু ভোগান্তি হলেও তা শেষ করতে হবে। আর এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে এডমিন করে ৫জন শিক্ষককে ইউজার হিসেবে নিয়োগ করে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here