রাজধলা বিলকে পর্যটনের আওতায় আনার দাবী দর্শনার্থীদের

0
133

মো: জায়েজুল ইসলাম: ঈদ উল ফিতরের পরদিন থেকেই একটু প্রশান্তির আশায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে নেত্রকোনার পূর্বধলার রাজধলা বিলপাড়ে। আগত দর্শনার্থীদের পদচারনায় যেন মুখরিত রাজধলা বিলপাড়। এ যেন একজন আর একজনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মুখ্যম স্থান। ঈদ কে কেন্দ্র করে যারা নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়ীতে এসেছেন পরিবার পরিজনদের সাথে ঈদ উপভোগ করতে তাদের বেশির ভাগেরই একটি অংশ এখানে ছুটে এসেছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই রাজধলা বিল পাড়ে।

শুধু আশে পাশের লোকজন নয় একটু প্রশান্তির আশায় অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে এসেছেন অনেকে। ছোট শিশু, ছেলে-মেয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পরিবারের প্রধানরা। কিন্তু অপার সম্ভাবনাময় এই রাজধলা বিলের পাশে বিনোদনের জন্য কোন কিছু না থাকায় হতাশ হয়েছেন দর্শনার্থীরা। এখানে একটি ওয়াক ওয়ের রাস্তা ও একটি ঘাটলার ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই আগত দর্শনাথীদের দাবী রাজধলা বিলকে পর্যটনের আওতায় এনে বিনোদনের উপকরণ স্থাপনের মাধ্যমে একে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার।

জানা গেছে প্রায় দেড়শ একর জায়গা নিয়ে গঠিত এই ঐতিহ্যবাহী রাজধলা বিলকে পর্যটনের আওতায় আনার জন্য এখানে কয়েক ধাপে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় বরাদ্ধ হতে পারে ২ কোটি টাকার উপরে। কিন্তু একমাত্র ঘাটলারটি ছাড়া আর কোনটাই দর্শনার্থীর মন কাড়তে পারেনি। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যায়ের সবচয়ে বড় প্রকল্প ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজটিও অসম্পুর্ণ থেকে গেছে। যাও নির্মান করা হয়েছে সেগুলি এখন স্থানে স্থানে ধেবে গিয়ে চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। দুই পাশের ব্লক সরে যাচ্ছে। পশ্চিম পাশে একটি ঘাট নির্মাণ করা হলেও তার চার পাশে মাটি না দেওয়ায় তা ব্যবহার করতে পারেননি দর্শনাথীরা। ঘাটটি এখন ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। এখানে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হলেও তা দর্শনার্থীরা কোনদিন ব্যবহার করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন অনেকে। সংস্কারেরও কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। এই বিলটি এক সময় কুচুরীপানা বিহীন ধলা বিল নামে পরিচিতি পেলেও সে ঐতিহ্য এখন হারাতে বসেছে। পুরো বিলের অর্ধেক কুচুরী পানায় ছেয়ে গেছে। সীমানা নির্ধারনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় চারদিকে বেদখল হয়ে এর পরিধিও ছোট হয়ে আসছে।
সরে জমিনে দেখা গেছে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত রাজধলা বিলপাড়। এ সময় আগত দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকায় এখানে সেখানে বসে গল্প করতে দেখা গেছে। ছোট ছেলে মেয়েরা এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে। অনেকেই প্রিয়জনদের সাথে ছবি তুলে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।
ছোট্ট শিশু, রুবাইয়া, রাইসা, খালিদ, রাফা বলে এখানে দোলনাত উঠনযানা, ফিছলা খেলন যানা, চরকিতে উঠনযানা, শুধু ঘুরাঘুরি করন যা। তাই তাদের দাবী এসব আনন্দ বিনোদনের উপকরণ স্থাপনের।
আগত দর্শনাথীদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, শরিফা বেগম, শামছুল হক, নিলুফা ইয়াসমিন, মো: আল মুনসুর জানায় দীর্ঘদিন আগে থেকে এ বিলকে পর্যটনের আওতায় আনার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি। বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, পানিতে নৌকা চড়ার কোন ব্যবস্থা নেই, টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, শুধু নেই আর নেই। এজন্য অনেক উৎসাহ নিয়ে এখানে আসলেও হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। তাদের দাবী ভবিষ্যতে বড় ছাতাসহ বসার ব্যবস্থা, বিলের পাড়ে বেলকনী নির্মাণ, শিশুদের জন্য দোলনাসহ ছোট রাইড ছড়ার ব্যবস্থা করা হলে এখানে আসার সার্থকতা খুজে পাওয়া যাবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন জানান, রাজধলা বিলকে পর্যটনের আওতায় এনে আধুনিকরন করা হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী পুরণ হবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here