Home আন্তর্জাতিক যেখানে বাংলাদেশিরা সবার উপরে

যেখানে বাংলাদেশিরা সবার উপরে

আরবান ডেস্ক : দুবাইয়ে চীনা পণ্যের বৃহত্তম বাজার ড্রাগন মার্ট। হাত বাড়ালে যেখানে মেলে নিত্য ব্যবহারের সব পণ্য। বিশ্বের নানা প্রান্তের পর্যটক ও ভ্রমণকারীরা একবার হলেও ঘুরে যান চীনা পণ্যের এই বাজারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাত্তা- দুবাই মহাসড়কের পাশে ইন্টারন্যাশনাল সিটির নিকটবর্তী বিশাল এলাকা জুড়ে এই বাজার। ভেতরে-বাইরে চীনা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আলপনা করা ড্রাগন মার্টের সাড়ে ছয় হাজারের অধিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে বাংলাদেশিদের নাম। এখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিক মিলে প্রায় ৬০ শতাংশই প্রবাসী বাংলাদেশি। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশের প্রবাসীরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন এখানে। বর্তমানে ড্রাগন মার্টকে ভাগ করা হয়েছে দুটি আলাদা অংশে। আঁকাবাঁকা কারুকাজে তৈরি পুরোনো ড্রাগন মার্টে রয়েছে প্রায় তিন হাজারের অধিক প্রতিষ্ঠান। যেখানে গৃহস্থালি, ভবনের উপকরণ, ইলেকট্রনিক্স, হার্ডওয়্যার, যন্ত্রপাতি, আসবাব, টেক্সটাইল, কার্পেট, ঘর সাজানোর সরঞ্জাম, বিলাসী পণ্য থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহারের সব পণ্যের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন ড্রাগন মার্ট তৈরি করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ শপিংমলের আদলে। এখানে রয়েছে সাড়ে তিন হাজারের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে নির্মিত হয়েছে হোটেল, আলাদা ফুডকোর্ট ও সিনেমা হল। শিশু-কিশোরদের জন্যও রাখা হয়েছে বিনোদনের সুব্যবস্থা। এই বাজারের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রিজু সমকালকে জানান, চাহিদা অনুযায়ী সব পণ্যের জোগান ও সাশ্রয়ী মূল্য থাকায় ক্রেতাদের অন্যতম পছন্দের জায়গা ড্রাগন মার্ট। প্রতিদিন ওমান, সৌদি আরব, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকরা ভিড় করেন এই বাজারে। ক্রেতাসাধারণের সন্তুষ্টি অর্জন ও ব্যবসায়িক কৌশলের দিক থেকে ভিনদেশিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুনাম কুড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা।
তবে চলমান মহামারি করোনার সঙ্গে অন্যদের মতো এখানকার ব্যবসায়ীদেরও লড়াই করতে হচ্ছে সমানভাবে। আগের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে ব্যবসায়। পরিস্থিতি উন্নতির দিকে থাকায় ঘুরে দাঁড়াতে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তরুণ ব্যবসায়ীরা।
তারা বলেন, ১০ হাজারের মতো গাড়ি পার্কিং থাকায় প্রতিনিয়ত ক্রেতার ভিড় থাকে এই মার্কেটে। দুবাইয়ের এই বাজারটি ঘিরে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির জীবন-জীবিকা জড়িত। করোনার ধকল কেটে গেলে এই বাজারে আবারও বাড়বে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা। প্রসার গড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যে।
ড্রাগন মার্টের মালিক ও নাখিল মলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর খোরি বলেন, করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এখানকার ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়। কারণ, ড্রাগন মার্ট এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের কেনাকাটা, বাণিজ্য, আহার এবং বিনোদনের অন্যতম প্রিয় স্থান। এখানে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য ভালো মানের পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হয়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় শিক্ষার্থীদের ঘরে বসে পরীক্ষা, পরীক্ষকের দায়িত্বে মা বাবা

সুহাদা মেহজাবিন : নেত্রকোনার পূর্বধলায় ঘরে বসে পরীক্ষা কার্যক্রম আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের দশম...

হেফাজত আমীর আল্লামা শফী আর নেই

আরবান ডেস্ক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৫...

কলমাকান্দায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মাে: ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকােনা) প্রতিনিধি: নেত্রকােনার কলমাকান্দায় শুক্রবার কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে শিক্ষক/কর্মচারীবৃন্দের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত...

পূর্বধলায় পানিতে ডুবে এক প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

মো: জায়েজুল ইসলাম : নেত্রকোনার পূর্বধলায় গত বুধবার রাতে পানিতে ডুবে উপজেলার হিরন্নপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলীর (৫৫) মৃত্যু...

মতামত

Print Friendly, PDF & Email