Home আন্তর্জাতিক মোহর এর মোহনীয়তায় মোহিত দুই বাংলা

মোহর এর মোহনীয়তায় মোহিত দুই বাংলা

আরবান ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে জনজীবন যখন পর্যুদস্ত তখন লকডাউনে টেলিভিশনই হয়ে উঠছে বিনোদনের অন্যতম বৃহৎ উৎস ৷ ভারতীয় বাংলা চ্যানেল স্টার জলসা’র এই মুহূর্তে তাই যেন সবচেয়ে সুখের সময় কাটছে ৷ কারণ চ্যানেলটির দু- একটি ধারাবাহিক বাদ দিলে প্রায় সবকটি মেগা ধারাবাহিকই রীতিমতো টিআরপি শাসন করছে গেল কয়েক সপ্তাহ টানা ৷ জি. বাংলা, কালার্স বাংলা, সান বাংলার বাঘা বাঘা সব ধারাবাহিক পেছনে পড়ে গেছে৷
তন্মধ্যে ‘মোহর’ ধারাবাহিক সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং অনুমিতভাবেই সর্বশেষ প্রকাশিত টিআরপি চার্ট অনুযায়ী ক্যারিয়ার সেরা টিআরপি রেটিং অর্জন করেছে ৷ ইতোমধ্যেই স্টার জলসার এই ধারাবাহিকটি জি বাংলার টিআরপি টপার ‘রাণী রাসমনি’ ও আরেক সুপার ডুপার ব্লকবাস্টার ‘কৃষ্ণকলি’ ও জলসারই ‘শ্রীময়ী’র মতো ধারাবাহিককে পেছনে ফেলে টিআরপি টপ হয়েছে ৷ গত বছরের ২৮ অক্টোবর হতে প্রথম অন এয়ারে আসে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মোহর’৷ ধারাবাহিকটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন ‘দেবী চৌধুরাণী’ খ্যাত সোনামণি সাহা ও ‘খোকাবাবু’ খ্যাত প্রতীক সেন ৷ বাংলার দর্শকদের আগ্রহ ছিল তখন থেকেই ব্যাপক তুঙ্গে ৷ পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি দর্শকদের ন্যায় বাংলাদেশেও রয়েছে ‘মোহর’ মেগাসিরিয়ালের প্রচুর ভক্তকুল দর্শক ৷ প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই টিআরপি’র কঠিন প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হতে হয় ধারাবাহিকটিকে ৷
প্রচারের প্রথম পাঁচ-ছ’মাস টানা সেরা সাতে জায়গা দখল করে রীতিমত টিআরপি চার্ট শাসন করতে থাকে সিরিয়ালটি৷ এর অন্যতম কারণ হিসেবে অবশ্য বিশ্লেষকরা মনে করছে ধারাবাহিকটির লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্যের মুনশিয়ানা;তিনি যেমন একাধারে সেরা প্রযোজক ঠিক তেমনি বাংলা ধারাবাহিকের সেরা চিত্রনাট্যকারদের একজন ৷ অভিজ্ঞ এই চিত্রনাট্যকার জানেন ঠিক কোন সময়ে গল্পে টুইস্ট আর ড্রামা আনতে হবে৷ আজকাল অনেক ভালো নারী স্ক্রিপ্ট রাইটারের কারণেই কিনা স্টার জলসা’র সিরিজগুলো জীবনের কথা বলে, নারীর উঠে আসার কথা বলে। সেই উঠে আসার পেছনে সংগ্রামের-অপমানের-বেদনার কথা বলে;লীনা গঙ্গোপাধ্যায় তেমনই একজন লেখিকা ৷ আর সঙ্গে সোনামণি-প্রতীক জুটির অনবদ্য অভিনয় গুণ যোগ হয়ে ধারাবাহিকটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান শুরু করতে থাকে ৷
সপ্তাহ শেষে টিআরপি চার্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি সুপার টপার সিরিয়ালের সঙ্গেও যুদ্ধে টিকে সেরা সুপার সাত ধারাবাহিক এর অবস্থান থেকে কখনোই হেলানো যায়নি এই ধারাবাহিকটিকে ৷ এবার গল্পে আসা যাক – ছোট মফস্বল শহরের মেয়ে মোহর । বাবা লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে জোর করে তার বিয়ে দিতে চাইলে বিয়ের আসর থেকে পালায় মোহর । কলকাতায় গিয়ে মোহরকে পড়াশোনার জন্য সাহায্য করে তাঁরই কলেজের অধ্যাপিকা ড. অদিতি রায় চৌধুরী, শুধু নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন বলে যাকে স্বামী-সন্তান-সংসার ছাড়তে হয়েছিল।
অদিতি ও মোহর দুজনেই প্রচণ্ড সৎ, মানবিক, নির্ভীক,সাহসী ও প্রতিবাদী মনোভাবের। অন্যদিকে শঙ্খ ভীষণ রাগী,বদমেজাজি,শিক্ষিত অহঙ্কারি; এককথায় বলা যায় ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ ৷ ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার আদর-ভালোবাসা বঞ্চিত ৷ অন্যদিকে মোহরের এই প্রতিবাদের ভাষা পছন্দ হয় না আপনজনদের কারও কারও। আবার কেউ কেউ নীরবে সমর্থন করে যায়। মোহরের মা, দিদি,ড. অদিতির জা, ভাইপোর স্ত্রী—যারা ওদের মতো নির্যাতিত, নিরন্তর অপমানিত, তারা যখন ওদের মনের সুপ্ত প্রতিবাদের ভাষা মোহর কিংবা অদিতির মুখে শুনতে পায় আনন্দে উজ্জ্বল হয় ওদের অবয়ব। সব মেয়ের পড়াশোনা করা উচিত। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। যাতে একটা সামান্য টিপের পাতা কিনতে গেলেও স্বামীর কাছে হাত পাততে না হয়, এটিই যেন ‘মোহর’ সিরিয়ালের মূল কথা।
সিরিয়ালের কেন্দ্রীয় চরিত্র মোহর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিয়ের আসর থেকে পালায় ও কলকাতার কলেজে ভর্তি হতে আসে সে। যেখানে তার থাকার কোনো জায়গা নেই। কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য টাকা দরকার, আগের কলেজের টিসি দরকার তদুপরি কলেজ ম্যানেজমেন্টের বিরোধিতা, সহপাঠীদের নির্মম আচরণ—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে কীভাবে মোহর তাঁর প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস, মেধা আর আত্মসম্মানবোধের জোরে টিকে থাকে, সেটা সত্যিই অনুসরণীয়।মোহর চরিত্রের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, সে কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে না।তার পর কীভাবে তার স্বপ্ন সফল হয়, সেই নিয়েই এই ধারাবাহিকের গল্প। নিজের স্বার্থের কথা, নিজের লাভের কথা না ভেবে সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে । কাউকে ছাড় দিয়ে সে কথা বলে না। মোহর তাঁর আইডল ড. অদিতি রায় চৌধুরীর অপমানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আন্দোলন করে ।
যেটা করতে গিয়ে সে যেমন অনেকের বিরাগভাজন হয়, তেমনিভাবে তাঁর অসামান্য নেতৃত্বগুণ ও সততা বহু ছেলেমেয়েকে আন্দোলনে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করে। ছাত্রজীবন যে শুধু চোখ–কান বন্ধ করে বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা নয়, সেটা সে প্রমাণ করে। বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গিয়ে অনিশ্চিত জীবন সে বেছে নেয়, কারণ সে নিজের আত্মপরিচয় খুঁজতে চেয়েছে ।করোনা মহামারীতে লকডাউনেও বিশেষ ব্যবস্থায় প্রচারিত হয়েছে বিশেষ পর্বসমূহ ৷ লকডাউন শেষে আনলক-১,২ ফেজে সম্প্রচারিত হয়েছে মোহরের মহা এপিসোড । শঙ্খ’র(প্রতীক) জন্মদিনে অপমানিত মোহর(সোনামণি)। আবারও দিয়া ও ময়ূরীর ষড়যন্ত্রের শিকার সে । ধারাবাহিকের অন্যতম খলনায়িকার ভূমিকায় তারা অবতীর্ণ ৷ শঙ্খর দুই বোন মোহরকে জানায়, জন্মদিনে শঙ্খ তাঁকে আমন্ত্রন করেছে। জন্মদিনের কার্ড এবং ফুল দিয়ে শঙ্খকে শুভেচ্ছা জানাতে যায় মোহর । কিন্তু মোহরকে দেখেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে শঙ্খ । সকল ছাত্রছাত্রীদের সামনেই মোহরকে অপমান করে শঙ্খ । তাঁর আনা উপহার ছুঁড়ে ফেলে দেয় সে। মাটিতে পড়ে যায় মোহরও । তবুও ভাবলেশহীন শঙ্খ।
ধারাবাহিকে শ্রেষ্ঠা ও শঙ্খর বিয়ে নিয়েও তাঁদের পরিবার মিথ্যে গল্প সাজিয়ে কলেজ পার্টিতে মোহরকে হেনস্থা- অপমান করা হয় ৷ এসিপি ও মোহর কে নিয়েও শঙ্খ বারংবার মোহরকে কথায় কথায় বিদ্ধ করে শঙ্খ ৷ কেননা মোহর ও শঙ্খ দুজনই দুজনকে ভালোবাসে কিন্তু নিজ নিজ ইগোর কাছে পরাস্ত হয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা কেউ কাউকে বলে উঠতে পারছে না ৷ বর্তমানে ধারাবাহিকটিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আম্পানের ঝড়ের গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত শঙ্খর হাসপাতালে মোহরের সঙ্গে ঝগড়া তবে মিষ্টি অভিমান ও মিথ্যার বেড়াজালে বন্দী একে অপরের প্রতি না বলা ভালবাসার পর্ব চলছে ৷
এছাড়াও ত্রিমুখী মোহর-শঙ্খ-শ্রেষ্ঠা’র একটি প্রেমের উপাখ্যান দেখানো হচ্ছে এখন ৷ এই গল্পের সঙ্গে বেশ কিছুটা মিলে যায় অভিনেত্রী সোনামণি সাহার নিজের জীবনের গল্পও । তিনিও বাবার প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও পা রেখেছিলেন মডেলিং ও অভিনয়ের জগতে। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর বাবা যেমন মেনে নিয়েছিলেন, তেমনই তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির পরিবার । পাঠকদের জানিয়ে রাখি, মোহর ওরফে সোনামণি বাস্তব জীবনে বিবাহিত ;তাঁর স্বামী সুব্রত রায়,একজন কোরিওগ্রাফার । গেল ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে ৷ সাইকোলজি অনার্স নিয়ে পড়েছে সোনা মণি । মালদার মেয়ে, স্কুল-কলেজ দুটোই ওখানে।
গ্র্যাজুয়েশনের শেষের দিকে কলকাতায় আসা । নাচ করতে খুব ভালোবাসে সোনামণি । ‘দেবী চৌধুরানী’ সোনামণির প্রথম কাজ । ‘দেবী চৌধুরানী’র প্রফুল্ল ও ‘মোহর, দুই চরিত্র একেবারেই আলাদা । পাঠকরা হয়তো মিল খুঁজবেন, আলাদা হলেও একটা মিল, দেবী চৌধুরানীর মতোই মোহরও প্রতিবাদী ।খুব কম বাঙালি অভিনেত্রীর উচ্চতা চোখে পড়ার মতো । টেলি অভিনেত্রীদের উচ্চতাও গড়পড়তা বাঙালি মেয়েদের মতোই সাধারণ । মাথা উঁচু করে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে, এমনটা প্রায় হয়ই না । কিন্তু এ বার ঠিক সেটাই হলো। সোনামণির উচ্চতা পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি । টেলিভিশনের ‘দেবী চৌধুরানী’ ধারাবাহিকে মুখ্য নারী চরিত্র করেছিলেন সোনামণি (প্রফুল্ল)। এই চরিত্রর জন্য দরকার ছিল বলিষ্ঠ শারীরিক গঠনের এক অভিনেত্রীকে। নিজেকে ফিট রাখতে হয় সবসময়।
অন্যদিকে প্রতীক সেন ‘খোকাবাবু’র পরে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’র সঙ্গে ‘ভালোবাসার বাড়ি’ ও ‘অতিথি’ ছবিতে কাজ করেছেন ৷ এরপর ‘মোহর’ দিয়ে টেলিভিশনে ফিরলেন প্রতীক ৷ সময় গড়ায় আর টুইস্ট এর পর টুইস্ট আর ড্রামাতে সপ্তাহের সাতদিনই জমজমাট রাত সাড়ে আট’টার (বাংলাদেশ সময়) স্টার জলসা ৷ টানা প্রায় আধঘন্টা বাংলার দর্শকদের চুম্বকের মতো টিভির সামনে ধরে রেখেছে ‘মোহর’৷ সোনামণি সাহা ও প্রতীক সেন ছাড়াও ‘মোহর’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন সুমন্ত মুখার্জি,রীতা দত্ত,লাভলী মৈত্র,দুলাল লাহিড়ী,মৌমিতা গুপ্ত,অভিষেক চ্যাটার্জি,অনুশ্রী দাস,জয়শ্রী মুখার্জী,রাজন্যা মিত্র প্রমুখ ৷ প্রসঙ্গত স্টার জলসায় এখন প্রতি সোম-শুক্র রাত ৮:৩০ মিনিটে প্রচারিত হচ্ছে মেগা সিরিয়াল ‘মোহর’ ৷ ধারাবাহিকটির কাহিনী,চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও পরিচালনায় শৈবাল ব্যানার্জি এবং প্রযোজনা করেছে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচারস্ লিমিটেড ৷

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-

জনপ্রিয় সংবাদ

করোনায় মৃত সরকারি চাকুরেদের ঋণ মওকুফের চিন্তা

আরবান ডেস্ক : কোভিডে (করোনাভাইরাস) মারা যাওয়া সরকারি চাকুরেদের ঋণ মওকুফের চিন্তা করা হচ্ছে। এই ঋণের মধ্যে রয়েছে গৃহনির্মাণ, গৃহমেরামত, কম্পিউটার, মোটরকার,...

প্রত্যেকটা কথা সত্যি বলবেন শিপ্রা-সিফাত, সময় চান

আরবান ডেস্ক : জামিনে মুক্ত হয়েছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত। তারা দুজনই অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ...

শফিউল বারী বাবুর অকাল মৃত্যুতে তজুমদ্দিন উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ‍্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

মোঃ আইয়্যুব আলী, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি : তজুমদ্দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে ভোলা জেলা...

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মশত বার্ষিকীতে তজুমদ্দিনে মৎস্য অবমুক্ত দিবস উদ্বোধন করেন – এমপি শাওন

মোঃ আইয়্যুব আলী, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মুজিব বর্ষে ১কোটি বৃক্ষ রোপন...

মতামত

Print Friendly, PDF & Email