বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি সিলেটে, বিদ্যুৎহীন রাতযাপন

0
42

আরবান ডেস্কঃ সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ তলিয়ে যাওয়ায় সিলেটে ২৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। বন্যার পানির কারণে সিলেটে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সড়ক ও বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। এখন পর্যন্ত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সিলেট শিক্ষা বোর্ড।
অপরদিকে বিদ্যুৎহীন রাতযাপন করেছেন বানভাসি মানুষজন। সিলেট সদর নগরীর বিভিন্ন এলাকাসহ জেলার সবকটা উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ২৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সবকটা বিদ্যালয়কে বনলতা আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. ওয়াদুদ জানান, এ পর্যন্ত জেলার ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
সিলেটে বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল ১১টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সিলেটের সাথে সব উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার থেকে
সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ এলাকাই পানিতে তলিয়ে গেছে। জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলারও বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দী। পানি বাড়ছে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলায়। নগরের অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে, আগামী রোববার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বন্যার কারণে পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
সিলেট সদর উপজেলার চাতলীবন্দ এলাকার বাসিন্দা রাহাদ আহমদের ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, ঘরে পানি বুক সমান আবার পরীক্ষা কি। আগে সন্তানদের নিয়ে বাঁচি।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সিলেটে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী। ১৪৯ পরীক্ষা কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল বলেন, ‘বন্যার পানিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৯টি উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ম্যাসেজ আমরা পাইনি।

বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিলেট নগরে ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সকাল থেকে আশ্রয় কেন্দ্র গুলো ভরে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা শহরের বন্যার্তদের জন্য ত্রাণের চাহিদা জেলা প্রশাসনের কাছে দিয়েছি। আপাতত সিটি করপোরেশনের কাছে যা আছে তাই নিয়ে বন্যার্তদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আসা মানুষজনকে রাত থেকে রান্না করা খাবার খাওয়ানো হবে।
শুক্রবার সকাল থেকে সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য মতে, নগরের ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, শামীমাবাদ, ডহর, তালতলা, কালিঘাট, সোবহানীঘাট, শাহজালাল উপশহর, তেররতন, হবিনন্দি, সাদিপুর, বোরহানবাগ, শিবগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার কদমতলিসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে।
সদর-উপজেলাসহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিটি বাসা বাড়িতে কোমর সমান পানি। অপরদিকে ব্যাংকারসহ স্কুলছাত্র বানের পানিতে ভেসে গেছে। এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে আটকে পড়াদের সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ কমিটির সভা হয়েছে। আটকে পড়াদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here