পূর্বধলায় করোনার ছোবল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে, মৃত ১, আক্রান্ত-৯

0
232

মো: জায়েজুল ইসলাম: নেত্রকোনার পূর্বধলায় সোমবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মো: শাহ আলম শাহীন (৪৩) নামে পূর্বধলা পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত এক লাইনটেকনেশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ওই দপ্তরের আরও ৯জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন । এতে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে পল্লীবিদ্যুতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে সারাদেশে কঠোর বিধি-নিষেধ চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চললেও বন্ধ রয়েছে অনেক গুরুত্বপুর্ণ দপ্তর। বর্তমানে পূবধলা উপজেলায় ক্রমবর্ধমান করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মাঝেও যে দু একটি প্রতিষ্ঠান নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন তার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অন্যতম। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এই করোনা পরিস্থিতির মাঝেও দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দপ্তরের প্রতিটি লোক। এ ক্ষেত্রে উৎসব, বিশেষ দিনসহ সকল ধরনের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে সারাক্ষন কাজ করতে হয় এই দপ্তরে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মাঠে-ময়দানে কাজ করতে গিয়ে কেউ কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা ভাইরাসে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্বধলায় ৯জন করোনায় আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ২জন সুস্থ্য হলেও মারা যান শ্যামগঞ্জ ইনডোর সাব স্টেশনের কর্মরত লাইন টেকনেশিয়ান মো: শাহ আলম শাহীন। কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার তিনি মারা যান। তার বাড়ী ময়নসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ ২সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো: জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক শোক বার্তা দেয়া হয়েছে। শোকবার্তায় শোকাবহ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে উল্লেখ করেন, তাঁর মৃত্যুতে নেত্রকোনা পবিসের সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সমিতি বোর্ডের সকল সদস্য ব্যথিত এবং শোকাহত। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরনীয় ক্ষতির জন্য ধৈর্য্যধারনের ক্ষমতাদান ও মৃতের জান্নাত কামনা করে শোকবার্তার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জ্ঞাপন করেছেন।
নেত্রকোনার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিএম লিপিয়া খাতুন জানান, পূর্বধলায় এ পর্যন্ত পল্লীবিদ্যুতের ৯জন আক্রান্ত হয়ে দুইজন সুস্থ্য হলেও মারা গেছেন ১জন। এই অবস্থায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here