পূর্বধলায় চলছে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন করের হোল্ডিং খোলার ডাটা এন্ট্রির কাজ

0
175

মোস্তাক আহমেদ খান : বাংলাদেশ সরকার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সবকিছু সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং এটুআই-এর সহায়তায় জমির মালিকদের হয়রানি ও ভূমি সেবা সহজীকরণে সব কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে।এর ধারাবাহিকতায় ভূমি উন্নয়ন কর বা জমির খাজনা ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার কার্যক্রম শুরু করেছে নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলা ভূমি অফিস। পূর্বধলা উপজেলার হলরুমে গত বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে চলছে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন করের হোল্ডিং খোলার ডাটা এন্ট্রির কাজ। এতে উপজেলার ভুমি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন ও ১১টি ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তাগণ এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি)’র উদ্যোক্তাগণ রাতদিন পরিশ্রম করে কাছ করে চলেছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে থাকছে না ম্যানুয়াল পদ্ধতি।ফলে ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে জমির মালিক ভূমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধ করতে পারবেন। এ জন্য ১০টি মডিউলসমৃদ্ধ ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এলআইএমএস) নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে।এই সফটওয়্যারের আওতায় অন্য মডিউলগুলো হচ্ছে- ভূমি নামজারি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা, ভূমি নামজারি পর্যালোচনা ব্যবস্থাপনা, ভূমি মিস কেস ব্যবস্থাপনা, বাজেট ব্যবস্থাপনা, খাজনা সনদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্যতম। এরই মধ্যে সবকটি পদ্ধতিই প্রস্তুত করা প্রায় শেষ। ভূমি সেবার বাকি কার্যক্রমগুলো পর্যায়ক্রমে এর আওতায় আসবে বলে জানা গেছে। ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

এ সংক্রান্তে গত (২৭মে) বৃহস্পতিবার দেশের সব জেলা প্রশাসনকে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, অনলাইনে ভূমি কর প্রদান করতে হলে ভূমির মালিককে প্রথমে অ্যাপ্লিকেশনে নিবন্ধন করতে হবে। একবার নিবন্ধিত হলে ওই ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে পুনরায় আর নিবন্ধন করার দরকার হবে না।চিঠিতে নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উপায়সহ বেশ কিছু নিয়মাবলী উল্লেখ করা হয়েছে। উপায় গুলো হলো-(১) অনলাইন পোর্টাল: www.land.gov.bd এবং www.ldtex.gov.bd -এ প্রবেশ করে এনআইডি ও মোবাইল ফোন নম্বর এবং জন্ম তারিখ এন্ট্রি করার মাধ্যমে।(২) কল সেন্টার নম্বর ৩৩৩ বা ১৬১২২-তে ফোন করে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্ম তারিখ ও জমির তথ্য প্রদান করে।(৩) জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে যেকোনো ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে।চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, নিবন্ধনবিহীন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনা দিতে গেলে ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রথমেই তার সব ডাটা এন্ট্রি করবেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে হোল্ডিং মালিকদের তথ্য এন্ট্রি করবেন। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি অফিসারগন নিজের ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বসে এলডি ট্যাক্স সিস্টেমে অন্যান্য ডাটা অনলাইনে এন্ট্রি করবেন।ভূমি মালিক ঘরে বসেই কম্পিউটারের মাধ্যমে অতি সহজেই এসব কাজ নিষ্পন্ন করতে পারবেন কোনো ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই ওয়ানস্টপ সেবা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে এ পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প সফলতার সঙ্গে শেষ হওয়ায় সরকার এখন ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। ভূমিকেন্দ্রিক নানা সেবা ডিজিটাইজেশন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ই-পর্চা (খতিয়ান), ই-নামজারি (ই-মিউটেশন) ও ভূমি উন্নয়ন কর (এলডি ট্যাক্স) তথা জমির খাজনা। জমির অন্য সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে অনলাইন সেবার আওতায় আসবে। ফলে নাগরিকরা তার জমি সম্পর্কিত কর ও ভূমি ব্যবস্থাাপনা সেবার যেকোন ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে পারবেন। পূর্বধলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন বেগম সেতু জানান, সারাদেশের ন্যায় পূর্বধলায় ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজেশনের কাজ শেষ হওয়ার পথে, ভবিষ্যতে কোনো ভূমি মালিককে ভোগান্তি পোহাতে হবে না; হতে হবে না হয়রানির শিকার। প্রত্যেক নাগরিক তার ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ থেকে শুরু করে ভূমি ব্যবস্থাপনার সব কাজ ঘরে বসেই নিজেই নিশ্চিন্ত মনে করতে পারবেন। এটি হবে মুজিববর্ষে সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতা বলে তিনি মন্তব্য করেন।এ প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হলে কমে যাবে ভূমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা, বিরোধ, সংঘাত-সংঘর্ষ ও বিভিন্নমুখী জটিলতা। দুর্নীতি-অনিয়ম শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রায় তিন বছর আগে উদ্যোগ নেয়। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে দ্রুততার সঙ্গে সরকারের এ উদ্যোগ সামনের দিকে এগোচ্ছে বলে তিনি জানান।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন বেগম সেতু একান্ত সাক্ষাৎকার আরও জানান, ডাটা এন্ট্রি করার সময় যদি নাম, মোবাইল নম্বর অথবা কোন ধরনের তত্ত্বগত ভুল থাকে তাহলে তা সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। ভূমি মালিকগণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে না গিয়ে অর্থাৎ ঘরে বসে কিংবা প্রবাসীরা সেখান থেকেই ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা সংগ্রহ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে উপজেলার সব ইউনিয়নে মৌজাওয়ারী ভূমি মালিকের তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়ার কার্যক্রম অনেক আগেই শুরু করেছেন তার দপ্তর। পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতিতে প্রত্যেক নাগরিক ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে যে কোনো সময় যে কোনো স্থান থেকে ভূমি কর সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন ও কর পরিশোধ করতে পারবেন। অনলাইনে পেমেন্ট করা ও অনলাইনে দাখিলা পাওয়ার সুযোগ পাবেন, নাগরিকের ভূমি অফিসে যাতায়াতের সময় ও খরচ এবং ভোগান্তি কমবে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কর্তৃক সঠিক দাবি নির্ধারণ পূর্বক ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।দেশের নাগরিকরা এখন থেকে ঘরে বসেই স্বস্তিতে অনলাইনে ভূমি নামজারি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা, ভূমি নামজারি পর্যালোচনা ব্যবস্থাপনা, ভূমি মিস কেস ব্যবস্থাপনা, বাজেট ব্যবস্থাপনা, খাজনা সনদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, মিউটেশন ফি, খতিয়ান ফিসহ যাবতীয় ভূমি সেবা ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে সব ফি জমা দিতে পারবেন।ভূমি মন্ত্রণালয়ের সব সেবা স্থাপনের জন্য ভূমিসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়, পেমেন্ট গেটওয়ে চ্যানেল সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান নগদ, উপায়, একপে ও বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এসব সেবা কেন্দ্রের শাখা থেকে ভূমি সেবার যেকোন ফি প্রদান করা যাবে।ফলে যেকোনো স্থান থেকে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজ পদ্ধতিতে কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে ভূমি কর পরিশোধ করতে পারবেন। যদি কেউ এ পদ্ধতিতে কর পরিশোধ করতে সক্ষম না হয়, তবে যেকোনো কম্পিউটার দোকানে গিয়ে বা যেকোন তথ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে এ সুবিধা নিতে পারবেন। পেমেন্ট গেটওয়ে চ্যানেলের মাধ্যমে আদায় করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সেটেলমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হয়ে ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে স্থানান্তরিত হবে।পল্লী এলাকার বসবাসকারী কৃষি পরিবারের চাষের জমি এবং বসত বাড়ী কৃষি জমি হিসাবে গন্য করেকৃষি হারে ভূমি উন্নয়ন কর ধার্য হবে। তবে পল্লী এলাকার পাকা ভিটির বাড়ীরজন্য শতক প্রতি ৫ টাকা হারে কর দিতে হবে। বাংলা সনের ভিত্তিতে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়। ৩ বছর পর্যন্ত অগ্রিম ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here