পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙার মিশন বাংলাদেশের

0
79

আরবান ডেস্ক : টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডকে কখনো হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। খেলেছে দশটি ম্যাচ। হেরেছে সবকটিতে। এবার সেই পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে চায় বাংলাদেশ। সেই মিশন শুরু হচ্ছে আজ বিকেল থেকে। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি মাঠে গড়াচ্ছে বিকেল ৪টায়। ম্যাচটি হবে মিরপুর শের-ই-বাংলায়।
কন্ডিশন, অতীত ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে এগিয়ে আছে। নিউ জিল্যান্ড জাতীয় দল পাঠালেও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের নিয়মিত ক্রিকেটার কেউ নেই। ফলে অভিজ্ঞতা বিবেচনায় স্বাগতিকদের বিবেচনায় তারা পিছিয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো এই সিরিজেও বাংলাদেশ ধীরগতির মন্থর উইকেট পাচ্ছে। যা বাংলাদেশের জন্য মানানসই। নিউ জিল্যান্ডের জন্য পুরোপুরি উল্টো। এই কন্ডিশনে নিউ জিল্যান্ড মোটেও অভ্যস্ত নয়। তবুও ঘরের মাঠ মাউন্ট ম্যাঙ্গানিউতে ব্যবহৃত ও জীর্ণ উইকেটে অনুশীলন করে কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েই বাংলাদেশে এসেছে তারা।
তবে বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমান রেকর্ড তো স্বাগতিকদের পক্ষেই কথা বলছে। শেষ আট টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ জিতেছে ছয়টিতে। অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর আগে জিম্বাবুয়ের মাটিতে জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। ফলে ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবিদার।
বাংলাদেশ যেমন টি-টোয়েন্টিতে কখনো জিতেনি কিউইদের বিপক্ষে ঠিক শেষ ১০ ম্যাচে তাদের বাংলাদেশের মাটিতে পারফরম্যান্সও কিন্তু হতশ্রী। বাংলাদেশের মাটিতে শেষ ১০ ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছে তারা। সেটাও মিরপুরে এক টি-টোয়েন্টিতে। সাতটি ওয়ানডেতে জিতেছে বাংলাদেশ, ড্র হয়েছে দুই টেস্ট।
অতীত পরিসংখ্যান ও বর্তমান সাফল্য বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুললেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সতর্ক অতিথিদের পেশাদারিত্ব ও একাগ্রতায়। তাইতো ম্যাচ শুরুর আগে বললেন, ‘ওরা খুব ভালো দল। নিউ জিল্যান্ড এমন একটা দল, যারা খুব ভালো হোমওয়ার্ক করে এবং খুব শৃঙ্খল। ওরা যে পরিকল্পনা করে সেই পরিকল্পনাতেই সব সময় ঠিক থাকার চেষ্টা করে।’
কিউইদের বিপক্ষে করণীয় কী সেই উপায়ও বাতলে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘ওদের সঙ্গে আমাদের ভালো খেলতে হলে শৃঙ্খল ক্রিকেট খেলতে হবে। আমার মনে হয়, আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুরের উইকেটের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং করি বা বোলিং করি। এই জিনিসগুলো শুরুতেই করে ফেললে দলের জন্য ভালো।’
বাংলাদেশের ভয়ডরহীন ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের নিয়েই যত ভয় ল্যাথামের, ‘তারা সবদিক থেকে আমাদের জন্য হুমকি। আমরা দেখেছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা কেমন করেছে? তাদের বেশ ভালোমানের স্পিনার রয়েছে এবং অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের স্পিনারদের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটিং চ্যালেঞ্জিং হবে। ভয়ডরহীন ব্যাটসম্যান আছে যারা ম্যাচটা একাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’
সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দুই দলের ভিন্ন লক্ষ্য। এ সিরিজ থেকে সর্বোচ্চটুকু আদায় করে বিশ্বকাপ মঞ্চে নামতে চায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ডের শুধু চাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়। দলটির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই বাংলাদেশ সফরের কেউ। ফলে কিউইদের সব ভাবনা শুধুমাত্র এ সিরিজকে ঘিরেই।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here